কিডনির পাথর দূর করার উপায়। বিস্তারিত জানুন।

আজ আমি কিডনির পাথর দূর করার উপায় বলব। কিডনিতে পাথর তা আমাদের অধিকাংশ মানুষেরই হয়ে থাকে। এই পাথর আমাদের কিডনি কে নষ্ট করে দেয়। কিডনি ভালো না থাকলে আমরা সুস্থ থাকি না।

এগুলো আমাদেরকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে।  তবে আমরা চাইলে ভেষজ উপায়ে কিডনির পাথর দূর করতে পারি। এই পাথরগুলোর নাম হল রেনাল পাথর। যা আমাদের কিডনির জন্য বিপদজনক।

কিডনির পাথর সম্পর্কে জেনে নিন

মিনারেল জমার কারণে আমাদের কিডনিতে একপ্রকার পদার্থ তৈরি হয়। এই পদার্থের নাম কিডনি পাথর।  এই পাথরের কারণে আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে থাকে। আপনাদের মনে একটি প্রশ্ন  আসতে পারে। 

আর তা হলো কিডনিতে পাথর হলে আমরা বুঝবো কিভাবে?।  এর লক্ষণ গুলো আমাদেরকে একটু বলেন। তাই, আমি নিচে এর লক্ষণ গুলো বর্ণনা করতেছি।

কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ গুলি জেনে নিন 

  • আপনি মাঝে মাঝে বমি করতে পারেন।
  • তলপেটের নিচে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।  আমারও মাঝে মাঝে তলপেটে ব্যথা হতো।  কিন্তু আমি এর কারণ বুঝতে পারতাম না।
  • পাঁজরে প্রচন্ড ব্যথা পাবেন।  এ ব্যথা আসা যাওয়া করবে।
  • প্রস্রাবের রাস্তায় প্রচন্ড ব্যথা করবে। প্রস্রাবের আকার লাল বা বাদামি হতে পারে।
  • আপনার প্রস্রাব থেকে দুর্গন্ধ বের হবে।  আশা করি, কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ গুলি জেনেছেন। এখন আমাকে বলতে পারেন ভাই এর প্রতিকার কি।  তাই, আমি প্রাকৃতিক উপায়ে কিডনির পাথর দূর করার কিছু উপায় আলোচনা করবো।

লেবু রসে কিডনির পাথর দূর করার উপায়

লেবুর রস খেয়ে কিডনির পাথর দূর করা যেতে পারে। এই রস আপনার কিডনিতে থাকা পাথরকে গলিয়ে দিবে। তা প্রস্রাবের মাধ্যমে আপনার শরীর থেকে বের হবে।

লেবুর রসে একপ্রকার উপকারী এসিড থাকে। এই এসিড এর নাম সাইট্রিক। যা কিডনিতে থাকা পাথর কে ধ্বংস করে দেয়। একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে ব্যক্তি প্রতিদিন লেবুর রস পান করে।

তার কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে আপনারা পরিমাণমতো লেবুর রস প্রতিদিন পান করবেন।  ইনশাল্লাহ আপনাদের যদি কারো কিডনিতে পাথর থাকে তা দূর হয়ে যাবে।

পানি পান করে কিডনির পাথর দূর করুন 

একটা প্রবাদ বাক্য আছে,পানির অপর নাম জীবন। পানি আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ।  পানি ছাড়া আমরা কোনভাবেই চলতে পারব না।  আপনি কি জানেন পানি পান করে ও কিডনির পাথর দূর করা যায়।  তবে হ্যা তা সত্যিই শুনেছেন।

কিডনিতে পাথর হলে এর প্রাথমিক চিকিৎসা হলো পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা।  আর আমরা অনেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করি না। আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।  আমার ইউরিন ইনফেকশন ছিল।

এবং মাঝে মাঝে আমার তলপেটও ব্যথা করত। কিন্তু আমি এর কারণ বুঝতাম না।  যখন আমি ডাক্তারের কাছে গেলাম,  ডাক্তার আমাকে পানি পান করার পরামর্শ দিল।  আমি সেই অনুযায়ী প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতাম। 

সত্যি বলছি, আমার প্রস্রাবের সমস্যা কিছুদিন পর  দূর হয়ে গেছে।  আপনি কি জানেন কিডনিতে পাথর হওয়ার অন্যতম লক্ষণ হলো ইউরিন ইনফেকশন।  তাই আমি সবাইকে পরামর্শ দিব আপনারা পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। 

তবে একটি কথা আপনাদের মাথায় রাখতে হবে। আর তা হল  আপনারা বাজারের মিষ্টি জাতীয় কোন পানি পান করবেন না। এই ধরনের পানিতে ফ্রুক্টোজ নামক একটি উপাদান থাকে। এই উপাদানটি পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।  তাই, আপনারা একটু সতর্ক থাকবেন।

সাইট্রিক এসিড এর মাধ্যমে কিডনির পাথর দূর করুন

 সাইট্রিক এসিড এমন একটি উপাদান যা কিডনিতে থাকা পাথরকে গলিয়ে ফেলে। তাই, বেশি বেশি সাইট্রিক এসিড গ্রহণ করুন। ফলমূল এবং সবজিতে এই এসিড পাওয়া যায়। একটি বিখ্যাত ফল আছে।  এই ফলের নাম হল সাইট্রাস। সাইপ্রাসে অত্যাধিক পরিমাণে সাইট্রিক এসিড থাকে। 

যারা এ ফলটি কেনার সামর্থ্য থাকে, তারা এই ফলটি খেতে পারেন। গবেষকদের মতে যারা প্রতিদিন সবজি খাবে।  তাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। তাই কথায় আছে, সাইট্রিক এসিড গ্রহণ করুন এবং কিডনির পাথর দূর করুন।

ক্যালসিয়াম গ্রহণের মাধ্যমে পাথর দূর করুন

আমাদের প্রত্যেকেরই ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম গ্রহণ সামর্থ্য নেই। কারণ, আমাদের মধ্যে অধিকাংশই মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। যাই হোক,  যারা এই রোগে ভুগছেন বা সুস্থ আছেন। 

প্রত্যেকের জন্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম দরকার।  একটি গবেষণায় দেখা গেছে যারা পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম গ্রহণ করে।  তাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।  অর্থাৎ আপনি ক্যালসিয়াম গ্রহণের মাধ্যমে কিডনির পাথর দূর করতে পারবেন।

আমি ক্যালসিয়ামযুক্ত কিছু খাবারের নাম বলি।  এই খাবার গুলো হলো দুধ,পনির,টক দই।ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করার জন্য প্রতিদিন দুধ খেতে পারেন। প্রাপ্তবয়স্করা দৈনিক এক হাজার মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা উচিত।

বৃদ্ধদের জন্য এক হাজার দুইশত মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা দরকার। তাই, এই পরিমাণ ক্যালসিয়াম গ্রহণ করলে, আপনি সুস্থ হয়ে উঠবেন ইনশাল্লাহ।

ভিনেগার ও মধুর মাধ্যমে পাথর দূর করুন 

মধুর মধ্যে দুটি বিশেষ উপাদান আছে।  এই উপাদানগুলো অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাংগাল। এইগুলো কিডনিতে পাথর হওয়া থেকে আপনাকে রক্ষা করবে। তাই, আপনি গরম পানির সাথে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

অথবা ভিনেগার ও মধু মিশিয়ে আপনি খেতে পারেন। তাই, প্রত্যেকের প্রতিদিন ভিনেগার ও মধু গ্রহণ করা উচিত। কিডনির পাথর দূর করার পাশাপাশি আপনার ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। 

নারকেল তেলের মাধ্যমে কিডনির পাথর দূর করুন 

নারকেল তেলের মাধ্যমে কিডনির পাথর দূর করা যায়।  আসুন জেনে নেই কিভাবে আমরা এই তেলটির মাধ্যমে পাথর দূর করব। প্রথমে আপনাকে ভিনেগার আনতে হবে।

এক চামচ নারকেল তেল এবং এক চামচ ভিনেগার এক কাপ পানিতে মিশ্রিত করুন। এই পানীয় প্রতিদিন একবার পান করুন।  ইনশাআল্লাহ আপনার কিডনির পাথর দূর হয়ে যাবে। 

বেকিং সোডার মাধ্যমে পাথর দূর করুন 

বেকিং সোডা ব্যবহারের মাধ্যমেও কিডনির পাথর দূর করা যায়। আসুন জেনে নেই কিভাবে তা ব্যবহার করবেন?। এতে এক প্রকার উপকারী এসিড আছে। তা কিডনির পাথরের এসিড কে নষ্ট করে দেয়। যদি পাথর বড় হয়, তা ছোট করে দেয়।

এবং কিডনির ব্যথা উপশম করে। তাই এক কাপ পানির সঙ্গে আধা চামচ বেকিং সোডা মিশ্রিত করুন।  তা প্রতিদিন পান করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি এই রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করবেন।

পাথর দূর করতে তুলসী পাতার ভূমিকা

কিডনির পাথর দূর করতে তুলসীপাতা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এই পাতা আমাদের শরীরের টক্সিন পরিষ্কার করে। প্রত্যেকের কিডনিতে একটি এসিড আছে।

ওই এসিড এর নাম হলো ইউরিক। তুলসী পাতার রস খেলে এই এসিড টি কমে যাবে। পরিশেষে,আপনার কিডনি ভালো থাকবে।

কোন খাবারগুলো খাওয়া উচিত না

কিডনিকে ভালো রাখতে যেসব খাবার খাওয়া পরিত্যাগ করতে হবে। তা নিচে আলোচনা করা হলো। ভিটামিন সি জাতীয় খাবার অতিরিক্ত গ্রহণ করবেন না। এই ধরনের খাবার গুলোতে একটি এসিড আছে।

এর নাম হলো অ্যাসকরবিক। তা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে,যারা অতিরিক্ত পরিমাণ ভিটামিন সি খাবার খায়। তাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা বেশী থাকে।

প্রাণীজ প্রোটিন জাতীয় খাবার পরিত্যাগ করুন 

প্রাণীজ প্রোটিন জাতীয় খাবার অতিরিক্ত গ্রহণ করা যাবে না। অর্থাৎ মাছ মাংস বেশি খাওয়া যাবে না। এই জাতীয় খাবারে একটি উপাদান আছে।  যার নাম হল পিউরিন। এই উপাদানটি কিডনিতে থাকা ইউরিক এসিড কে নষ্ট করে দেয়। যার ফলে আপনার কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

আশা করি, কিডনির পাথর দূর করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছেন। আপনারা যদি আমার পদ্ধতি অনুসরণ করেন। ইনশাআল্লাহ আপনাদের কিডনিতে থাকা পাথর চিরতরে বিদায় হয়ে যাবে। 

আরো পড়ুনঃ টেলিটক নাম্বার দেখার উপায় জেনে নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.