গর্ভাবস্থায় শরীর দুর্বল হলে করণীয় জানুন।

আজ আমি গর্ভাবস্থায় শরীর দুর্বল হলে করনীয় কি তা নিয়ে আলোচনা করব।

গর্ভকালীন সময়ে আমাদের মা-বোনেরা যে দূর্বলতায় ভোগেন না এরকম খুবই কম আছে।

কিন্তু অধিকাংশ মহিলারাই এই দুর্বলতা সমস্যায় ভুগছেন। এর প্রধান কারণ হলো আমাদের গর্ভবতী মা-বোনেরা সময়মতো খাওয়া-দাওয়া গ্রহণ করেন না।

এছাড়াও গর্ভবতী মহিলাদের দেখা দেয় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা যার কারণে তাদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

তাই আজ আমি গর্ভকালীন সমস্যা গুলি কি কি এবং গর্ভাবস্থায় শরীর দুর্বল হলে করণীয় কি তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আরো পড়ুনঃ পেটের চর্বি কমানোর উপায়

গর্ভকালীন সমস্যা গুলি কি কি জেনে নিন

এনিমিয়া সমস্যা যা প্রত্যেক গর্ভবতী মহিলা ভুগে থাকে। আমরা সবাই জানি যে দেহে লোহিত রক্তকণিকা থাকে।

এখন আপনারা আমাকে বলতে পারেন ভাই, এ রক্ত কণিকার কাজ কি? এর কাজ হলো আমাদের দেহের ভিতরে অক্সিজেন সরবরাহ করা।

কিন্তু আপনি জানেন কি? এনিমিয়া সমস্যা যদি হয়, তাহলে তা ঐ রক্তকণিকার সংখ্যা উপশম করে দেয়।

ফলে ওই ব্যক্তির শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। পরিশেষে ওই মহিলা দুর্বলতার সমস্যায় ভোগে।

প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া নামে এই সমস্যাটি ও গর্ভবতী মহিলাদের হতে পারে। প্রথমাবস্থায় মহিলা খুবই ভালোই থাকে।

কিন্তু বিশ  সপ্তাহ এরপর এই সমস্যাটি উদ্ভব হয়। এর অপর নাম হল টক্সিমিয়া। এ সমস্যাটি হল গর্ভবতী মহিলারা বাচ্চা জন্ম সঠিক সময় দিতে পারে না।

ফলে একজন গর্ভবতী মহিলা দুর্বল হয়ে পড়ে। উচ্চ রক্তচাপ এ সমস্যাটি ও একজন গর্ভবতী মহিলাকে গ্রাস করতে পারে। আপনি কি জানেন?

গর্ভবতী মহিলার বিশ সপ্তাহ হওয়ার পর থেকেই তার রক্তচাপ বাড়তে থাকে। আর তা বাচ্চা জন্ম হওয়ার আগ পর্যন্ত থাকে।

তাই যদি গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তাহলে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া নামে এই মারাত্মক সমস্যাটি দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। 

জেস্ট্যাশনাল ডায়বেটিস এই সমস্যাটি গর্ভাবস্থায় দেখা দিতে পারে। এর প্রধান কারণ হলো রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ না করা।

এই টাইপের ডায়াবেটিস হলে গর্ভবতী মহিলার রক্তে সুগারের মাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায় যা তার জন্য বিপদজনক এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

গর্ভাবস্থায় শরীর দুর্বল হলে করণীয় গুলো জানুন

গর্ভাবস্থায় শরীর দুর্বল হলে করণীয় কি তা নিচে দেওয়া হলঃ 

  • প্রথমত পরিমাণমতো পানি খেতে হবে। আমরা জানি পানির অপর নাম জীবন। তাই পানি খেলেই আপনার শরীরের দুর্বলতা অনেকাংশেই কমে যাবে।
  • তবে মাথায় রাখবেন যারা পানি খেলে যদি গা শিরশির হয়ে ওঠে, তাহলে আপনারা পানির সাথে কিছুটা লেবুর রস মিশ্রিত করুন।
  • তারপর ওই পানি পান করুন। ফলে আপনার শরীরে দুর্বলতা কাটিয়ে কিছুটা সতেজ ভাব চলে আসবে। 
  • প্রতিদিন সকালে দুইটি খাবার আপনার খাদ্য তালিকায় রাখবেন। এগুলো হলো পিপরামিন্ট ক্যান্ডি এবং টোস্ট। 
  • আপনি যদি গর্ভাবস্থায় এই দুটি খাবার নিয়মিত সকালে খান, তাহলে তা আপনার দুর্বলতা কাটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে ইনশাল্লাহ। 
  • পাশাপাশি যথাসম্ভব টক জাতীয় খাবার খাবেন। কেননা এই খাবারগুলো প্রেগনেন্সির সময় দুর্বলতা কাটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
  • এখানে আপনারা আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন ভাই, টক জাতীয় খাবার তো সব সময় পাওয়া যায় না তো আমাদের এখন কি করা উচিত?
  •  তাই আমি আপনাদের বলব দোকানেই বিভিন্ন ধরনের টকজাতীয় চকলেট পাওয়া যায। ঔ চকলেট গুলো যদি আপনি খান,তাহলে আপনার মুখের রুচি টা কিছুটা হলেও ঠিক থাকবে। পাশাপাশি যদি আপনার বমিভাব থাকে, তাহলে তা দূর হয়ে যাবে। এবং আপনার শরীরের দুর্বলতা কাটাতে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে। 
  • মাঝে মাঝে দেখা যায় গর্ভবতী মহিলাদের প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করে।
  • তাই আমি তাদেরকে পরামর্শ দিব আপনারা এক টুকরো আপেল খেতে পারেন যা ব্যথা উপশম করতে সহায়ক হবে। 
  • পাশাপাশি পিনাট বাটার খেতে পারেন যা আপনার মুখে রুচি আনতে সাহায্য করবে। পরিশেষে বলব গর্ভবতী মায়ের মধু খাওয়া উচিত। কেননা তাতে একটি বিশেষ উপাদান আছে যা শরীরকে সতেজ করে তোলে। 

এ সকল বিষয়গুলো মেনে যদি আপনারা চলেন তাহলে আশাকরি আপনাদের শরীর দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।  আশা করি গর্ভাবস্থায় শরীর দুর্বল হলে করণীয় কি জানতে পেরেছেন। এবং আমাদের ফেসবুক পেইজের সাথে থাকুন।

source: https://www.somoynews.tv

Leave a Reply

Your email address will not be published.