জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়

আজ জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় নিয়ে আলোচনা করব। আমাদের সবারই জ্বর হয়ে থাকে। কিন্তু আমরা জ্বর হলেই ঔষধ খাই। এবং এন্টিবায়োটিক ওষুধ গ্রহণ করে থাকি।

আর তা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। আপনার জ্বর যদি ৩৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকে। তাহলে আপনার ঔষধ নেওয়া উচিত হবে না। কারণ এই তাপমাত্রার জ্বর শরীর প্রতিরোধ করতে পারে।

কিন্তু আমরা অনেকেই এই নিয়ম মানি না। আজ আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আমার গত বছর টানা জ্বর ছিল।আর আমি জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতাম না। তাই আমি ব্যাপকভাবে ওষুধ গ্রহণ করেছিলাম। এমনকি আমি প্যারাসিটামল সহ এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করেছিলাম।

যার ভয়ঙ্কর পরিণতি  এক বছর যাবত ভুগতে হয়েছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে আমার জ্বর খুবই কমই ছিল। কিন্তু এন্টিবায়োটিকের মতো ওষুধ গ্রহণ করায়।এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমার  শরীরে দেখা গিয়েছে।আর আপনারা জ্বর হলেই ভয় পাবেন না। তাই আমি জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে কিছু টিপস বলব।যদি আপনারা তা গ্রহণ করেন। ইনশাআল্লাহ আপনাদের জ্বর ভালো হয়ে যাবে।

Contents hide

জ্বর কমাতে মাথায় জলপট্টি

জ্বর হলে প্রাথমিকভাবে আমাদের মাথায় জলপট্টি দেওয়া উচিত। আর তা একটি খুবই কার্যকরী পদক্ষেপ। এখন আমি আপনাদের বলব জলপট্টি দিতে কি কি লাগে। এবং কিভাবে মাথায় ব্যবহার করবেন। 

কি কি প্রয়োজন হবে

  1. একটি পরিষ্কার রুমাল লাগবে।
  2. একটি বাটিতে পরিমাণমতো জল লাগবে। 

কিভাবে মাথায় ব্যবহার করব

  • শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে ওই রুমালটি প্রথমে ভাজ করবেন।
  • ভাটির জলে রুমালটি  ভিজিয়ে নিন।
  • তারপর রুমালটি কপালে দিবেন।
  • 2 মিনিট তা কপালে থাকবে।
  • দুই মিনিট পর রুমালের উল্টো দিকটা আবার ভিজিয়ে নিন।
  • পুনরায় মাথায় চেপে রাখুন।
  • এভাবে কয়েকবার দেওয়ার পর। রুমালটি আপনার শরীরের মাথার তাপমাত্রা চুষে নেবে।
  • ফলে আপনার জ্বর ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।

ফলাফল

এক গবেষণায় দেখা গেছে, জ্বর হলে শরীর তাপমাত্রা মাথার মাধ্যমে বের করে দিতে চায়।তাই প্রত্যেকের উচিত জ্বর হলে মাথায় পানি দেওয়া। আর যদি তা না পারেন, তাহলে জলপট্টি দিতে কখনো ভুল করবেন না।আর ঘরোয়া উপায়ে গুলির মধ্যে তা একটি অন্যতম মাধ্যম।

জ্বর কমাতে তুলসী পাতার ব্যবহার

জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় গুলির মধ্যে তুলসী পাতা অন্যতম একটি উপকরণ। জ্বর কমাতে তুলসী পাতা খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কি কি লাগবে এবং এর ব্যবহার বিধি আমি নিচে বলে দিচ্ছি।

কি কি প্রয়োজন হবে

  1. আট থেকে নয়টি তুলসী পাতা লাগবে। 
  2. একটি বাটির অর্ধেক গরম জল লাগবে।

ব্যবহারবিধি

  • আট থেকে নয়টি তুলসী পাতা ভালো করে পরিষ্কার করে নিন।
  • এবার তুলসী পাতা গুলো গরম জলে দিবেন।
  •  তারপর জলটা ভালো করে  ফোটাতে হবে।
  • ফুটানোর পর এক কাপ জল পান করবেন।
  • প্রতিদিন সকালে আপনাকে তা পান করতে হবে।

ফলাফল

আপনার যদি জ্বর সর্দি-কাশি থেকে থাকে। তাহলে তা ইনশাআল্লাহ কমে যাবে।তুলসী পাতার মধ্যে দুটি উপাদান আছে।এগুলো হল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টিবায়োটিক। এই দুটি উপাদান  জ্বরের  সেলগুলো নষ্ট করে দেয়।

জ্বর প্রতিরোধে মধুর ব্যবহার

জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় গুলির মধ্যে মধু অন্যতম একটি বিশেষ উপকরণ। জ্বর প্রতিরোধে মধু খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে।আমি নিজেও মধু খেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ চমৎকার উপকারিতা পেয়েছি। কি কি লাগবে এবং কিভাবে খাবেন।আমি তার ব্যবহার বিধি আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

কি কি লাগবে

  1. এক চামচ অথবা দুই চামচ মধু নিবেন।
  2. অর্ধেক লেবু কেটে নিবেন।
  3. এক কাপ হালকা গরম পানি লাগবে।

ব্যবহারবিধি

  • গরম পানির মধ্যে মধু এবং লেবু ভালোভাবে মিশ্রিত করুন। 
  • ওই পানি সকাল এবং বিকেলে পান করবেন। 

ফলাফল

মধুর মধ্যে এক প্রকার এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে।এই উপাদানটি শরীরের ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ফলে,আপনার জ্বর ধীরে ধীরে কমে যাবে ইনশাআল্লাহ। ভাইরাসজনিত জ্বর হলে আমরা মূলত মধু এবং লেবু গরম পানি খেয়ে থাকি। তা নিয়মিত পান করলে আপনার শরীর গরম থাকবে। ফলে আপনার তাপ ধীরে ধীরে কমে যাবে।

জ্বর কমাতে আদার ব্যবহার

জ্বর কমাতে আদার কোন বিকল্প নেই। আদা ঘরোয়া উপায়ে গুলির মধ্যে অন্যতম একটি বিশেষ মাধ্যম। কি কি লাগবে এবং এর ব্যবহার বিধি নিচে বলে দিচ্ছি।

কি কি লাগবে

  • একটি বাটা লাগবে আদা বাটার জন্য।
  • আধ চা-চামচ বাটা আদা লাগবে।
  • মধু এক চামচ অথবা দুই চামচ লাগবে পানির পরিমাণ অনুযায়ী।
  • এক কাপ হালকা গরম পানি নিবেন।

ব্যবহারবিধি

  • ওই গরম পানিতে আধা চা-চামচ আদা বাটা ভালো করে ফোটাতে হবে।
  • তারপর মধু মিশ্রিত করুন। 
  • চার থেকে পাঁচবার দিনে পান করুন।
  • এভাবে কয়েকদিন পান করলে। জ্বরের তাপমাত্রা কমতে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

ফলাফল

আধার মধ্যে এক ধরনের উপাদান আছে। যা শরীরের ভাইরাস গুলো নষ্ট করে দেয়। এবং আপনার তাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।প্রত্যেকের দেহে ইমিউন সিস্টেম আছে।এই সিস্টেমকে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস থেকে রক্ষা করে। গবেষকদের মতে, আদা শরীরে এন্টিভাইরাস হিসেবে কাজ করে। এবং আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই, আপনার জ্বর হলে আপনি আধা ব্যবহার করতে পারে। 

ঘরোয়া উপায়ে জ্বর কমাতে তিল তেলের ভূমিকা

ঘরোয়া উপায়ে জ্বর কমাতে তিলের তেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।কি কি লাগবে এবং এর ব্যবহারবিধি আমি নিচে বলে দিচ্ছি।

কি কি লাগবে

কয়েক ফোটা তিল এবং তেল লাগবে।তারপর এক কাপ গরম পানি প্রয়োজন হবে।

ব্যবহারবিধি

  1. এক কাপ গরম পানিতে তিল তেল মিশ্রিত করুন।
  2. দিনে চার থেকে পাঁচবার পান করুন।
  3. এটা শরীরের তাপমাত্রা কমাতে খুবই সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

ফলাফল

তিল তেলের মধ্যে একটি উপাদান আছে। এই উপাদান টির নাম হল এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। যা শরীরের তাপমাত্রা উপশম করতে সহায়তা করে। তাছাড়া সর্দি কাশি এবং গলা ব্যথা হলে আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করতে হবে। আপনি ভালো ফলাফল পাবেন। 

অ্যাপেল সিডার ভিনেগার দিয়ে জ্বর কমানোর ঘরোয়া মাধ্যম

অ্যাপেল  সিডার ভিনেগার দিয়ে আপনার জ্বর কমতে পারে । কি কি লাগবে এবং এর ব্যবহারবিধি নিচে দেওয়া হল।

কি কি লাগবে
  1. অ্যাপেল সিডার ভিনেগার তিন চামচ। 
  2. মধু এক চামচ অথবা দুই চামচ লাগবে।
  3. এক গ্লাস পানি লাগবে।

ব্যবহারবিধি

  1. এক গ্লাস পানিতে তিন চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার এবং এক চামচ অথবা  দুই চামচ মধু মিশ্রিত করুন। 
  2. প্রতিদিন 1 থেকে 2 বার পান করুন। 
  3. জ্বরের সময় আপনার গোসলের পানিতে আপেল সিডার ভিনেগার মিশ্রিত  করুন। ওই পানি দিয়ে গোসল করুন। 
  4. 30 থেকে 50 মিনিটের ভিতরে আপনি এর ফলাফল পাবেন ইনশাআল্লাহ।
  5. একটি পরিষ্কার রুমাল নিন।  এবং তা তিন ভাজ করুন।
  6. এক ভাগ অ্যাপেল সিডার ভিনেগার। এবং দুই ভাগ পানি দিয়ে রুমাল ভিজিয়ে মাথায় জলপট্টি দেন। ফলে, আপনার শরীরের তাপমাত্রা কমে যাবে।
ফলাফল

গবেষকদের মতে, অ্যাপেল সিডার ভিনেগার হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক ঔষধ।এর মধ্যে রয়েছে একটি অ্যাসিড। যা আপনার শরীরের তাপমাত্রা কে উপশম করে। ফলে, আপনার জ্বর কমে যাবে। 

রসুন দিয়ে জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়

কি কি লাগবে

  1. এক  কোয়া অথবা দুই কোয়া রসুন লাগবে।
  2. এক কাপ গরম পানি লাগবে।
  3. অলিভ অয়েল তিন থেকে চার চামচ লাগবে 

ব্যবহারবিধি

  • এক কাপ গরম পানিতে রসুন কুচি করবেন। তারপর 10 থেকে 15 মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। 
  • দ্বিতীয় ওই রসুন গুলো কে পরিষ্কার করে নিন। ওই গরম পানি পান করুন। দিনে তিন থেকে চারবার পান করবেন। 
  • আরেকটি উপায় হল দুই কোয়া রসুন ছেচে নিবেন।তারপর তা অলিভ অয়েল এর সাথে মিশ্রিত করুন। 
  • এবং দুই পায়ের তালুতে ভালোভাবে ব্যবহার করুন।
  • এখন পা দুটিকে প্যাঁচাতে হবে।তবে হা, কাপড় পাতলা হতে হবে। এভাবে সারারাত থাকবে।
  •  ইনশাল্লাহ পরদিন আপনার জ্বর ভালো হয়ে যাবে।
  • কিন্তু গর্ভবতী এবং বাচ্চারা এই পদ্ধতি অবলম্বন করবেন না। 

ফলাফল

রসুন আমাদের শরীরকে গরম করে তোলে। রসুনের মধ্যে দুটি উপাদান আছে। এগুলো হলো এন্টিফাঙ্গাল এবং এন্টি  ব্যাকটেরিয়াল। এ দুটি উপাদান আমাদের শরীরের ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করে আমাদেরকে রক্ষা করে। এবং আমাদের শরীরকে উষ্ণ করে তোলে।পরিশেষে, আমাদের শরীর থেকে ঘাম সৃষ্টি হয়। ফল, আমরা জ্বর থেকে মুক্তি পাই।

জ্বর কমাতে পুদিনা পাতার অবদান

পুদিনা পাতার মাধ্যমে আপনি শরীরে জ্বর কমাতে পারেন। প্রথমে,পুদিনা পাতা আপনাকে বাটতে হবে।তারপর এক চামচ বাটা পুদিনা পাতা নিবেন। এবং এক চামচ মধুর সাথে মিশ্রিত করবেন।  এবং এক কাপ গরম পানিতে ঢেলে দিন।তারপর দশ থেকে পনের  মিনিট অপেক্ষা করুন।তা দিনে চার থেকে পাঁচবার পান করুন। ফলে, আপনার জ্বর কমে যাবে ইনশাআল্লাহ। পুদিনা পাতা আপনার শরীরকে শীতল রাখতে সহায়তা করে।

হলুদ দিয়ে জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়

প্রথমত, আপনাকে এক টুকরো হলুদ নিতে হবে। দ্বিতীয় ছয় থেকে সাতটি পুদিনাপাতা নিবেন।তৃতীয়তঃ আধ বা এক টুকরো দারুচিনি নিবেন।তবে হলুদ দিয়ে ভালো করে বেটে নিন। তারপর হলুদ, পুদিনা পাতা, দারুচিনি মিশিয়ে এক কাপ জলে   ঢালুন।20 মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর দেখবেন চা এর আকার ধারণ করবে। তা দিনে দুই থেকে তিনবার পান করুন। 

জ্বর কমাতে গ্রিন টি এর ভূমিকা

গ্রিন টি জ্বর কমাতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটা গ্রিন টি ব্যাগ নিবেন। তারপর গরম জলে  এটা মিশ্রিত করুন। 5 মিনিট রাখুন।ওই গ্রিন টি এখন খেয়ে ফেলুন। তারপর আপনার তাব আস্তে আস্তে কমে যাবে ইনশাল্লাহ। আপনি গ্রিন টি মধুর সাথে মিশ্রিত করে পান করতে পারেন। 

যষ্টিমধু দিয়ে জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়

প্রথমে আপনি এক টুকরো যষ্টিমধু নিবেন। দ্বিতীয় এর ছাল গুলো ভালভাবে পরিষ্কার করুন। পরিশেষে, আপনি তা চিবিয়ে খাবেন।আপনার জ্বর কমে আসবে ইনশাআল্লাহ। কারণ এর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আছে।

এগুলো হলো অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি। শরীরে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে এগুলো আপনাকে রক্ষা করবে। এর মধ্যে প্রোটিন তৈরির একটি উপাদান আছে। তার নাম হলো পেপাটাইড। তা  শরীরের ব্যাকটেরিয়া সেল গুলোকে নষ্ট করে দেয়। 

জ্বর প্রতিরোধের দারুচিনি

জ্বর প্রতিরোধের দারুচিনি খুবই সহায়ক। প্রথমে, এক চামচ দারুচিনির গুঁড়ো এক চামচ নিতে হবে। তারপর তা এক চামচ মধুর সাথে মিশ্রিত করুন। দিনে তিন থেকে চারবার খান। তারপর আপনার জ্বর ধীরে ধীরে কমে আসবে ইনশাআল্লাহ।

কারণ তাতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আছে। এরা হলো অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টিফাঙ্গাল।এরা আপনাকে মরণব্যাধি ভাইরাস থেকে রক্ষা করবে। 

পরিশেষে, ভিটামিনযুক্ত খাবার খাবেন। তারপর বিশ্রাম নেবেন। ইনশাআল্লাহ আপনারা সুস্থ হয়ে উঠবেন। আশা করি,জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত শুনেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!