পানি পান করার সঠিক নিয়ম জানুন।

আজ আমি পানি পান করার সঠিক নিয়ম নিয়ে আলোচনা করব। আমরা সবাই জানি যে পানির অপর নাম জীবন।

অক্সিজেন এর পরে পানিকে স্থান দেওয়া হয় অক্সিজেন ছাড়া যেভাবে আমরা বেঁচে থাকতে পারবো না। ঠিক তেমনি ভাবে পানি ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকা অসম্ভব।

আমাদের হাড়, পেশি এবং মস্তিষ্ক পানি দ্বারা গঠিত। রক্ত ও ফুসফুস এর আশি শতাংশ পানির তৈরি। জীবনে বেঁচে থাকতে হলে পানি পানের কোন বিকল্প অন্য কিছু নেই।

পানি পান করার ফলে কিডনির ভিতরে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকারক টক্সিন দূর হয়ে যায়।  তবে পানি পান করার সঠিক নিয়ম আছে।এই নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় শরীর দুর্বল হলে করণীয়।   

Contents hide

খাবারের পর কেন পানি খাবেন না?(পানি পান করার সঠিক নিয়ম

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যে খাবার খাওয়ার পরেই পানি খেয়ে ফেলি। কিন্তু আসলে তা সঠিক নয়।

সঠিক না হওয়ার পিছনে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ আছে তা নিয়েই আজকে আমি আপনাদের বলব।

আর তা হলো খাবারের পর পর যারা পানি পান করে তাদের পেটের ভিতরে কিছু জীবাণু সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে কলেরার জীবাণু অন্যতম।

আর দ্বিতীয়ত যেই সমস্যার সৃষ্টি হয় তা হল খাবার হজম ঠিকভাবে হবে না। ফলে আপনার বিভিন্ন ধরনের গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

তাই খাবার গ্রহণ করার পর কখনো পানি খাবেন না। পানি খাওয়ার সঠিক কিছু নিয়ম নিচে দেওয়া হল।

সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করবেন (পানি পান করার সঠিক নিয়ম

আমাদের মধ্যে অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করি না। আপনি কি জানেন?

যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করেন,তাহলে আপনার দেহের ভিতরে থাকা বিভিন্ন জীবাণু অথবা ক্ষতিকারক টক্সিন যা মানবদেহের জন্য বিপদজনক সেগুলো বের হয়ে যাবে।

তাই আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে সকালে পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। কেননা তা আপনাকে বিভিন্ন মরণব্যাধি রোগ থেকে রক্ষা করবে। 

খাবারের পর পানি পান করা উচিত কি?

আমাদের মধ্যে প্রায় অধিকাংশ মানুষেরই খাবারের পর পর পানি পান করে। বিশেষ করে আমিও পানি পান করি। কিন্তু আজ আমি জেনেছি যে খাবারের পর পানি পান করলে এর কতটা ভয়াবহ।

আপনি যদি খাবার গ্রহণ করার পর পানি পান করেন, তাহলে আপনার হজমের জন্য সহায়ক পাচক রস আছে তার কার্যক্ষমতা দিন দিন কমে যাবে।

আপনি বিভিন্ন ধরনের রোগের সম্মুখীন হতে পারেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বদ হজমে ভোগবেন। তারপর আপনার পেটে গ্যাস ও অম্বল এর মত বিভিন্ন রোগ হতে পারে।

তাই আমাদের উচিত খাবারের পর পানি পান না করা। কমপক্ষে আধা ঘন্টা পর পর পানি পান করবেন। তারপর তৃপ্তিসহ পানি দুই থেকে তিন ঘন্টার পর পান করুন।

চুমুক দিয়ে পানি পান করব কি?(পানি পান করার সঠিক নিয়ম

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আমাদেরকেই চুমুক দিয়ে পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। কেননা আমাদের মুখে দৈনন্দিন অনেক লালার জন্ম হয়।

আমরা যখন চুমুক দিয়ে পানি পান করি, তখন সে লালা আমাদের পেটের ভিতরে গিয়ে হজমে  সাহায্য করে।

আর যখন আমরা গর গর করে পানি পান করি, তখন তা পেটের ভিতরে গিয়ে ভালোভাবে কাজ করতে পারে না। 

তাই বিশেষজ্ঞদের মতে চুমুক দিয়ে পানি পান করাই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

কুসুম গরম করে পানি পান করুন (পানি পান করার সঠিক নিয়ম

আমরা যখন ঠান্ডা পানি পান করি, তখন তা আমাদের হজমে বিষাক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ফলে আমাদের পাকস্থলীতে বড় ধরনের একটি প্রেসার হয়।

তাই যদি আমাদের পেটের ভিতর হালকা গরম খাবার থাকে,তাহলে ওই ঠান্ডা পানি গিয়ে একপ্রকার বিষ সৃষ্টি করে। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই কুসুম গরম পানি পান করা উচিত। 

অল্প অল্প করে পান করুন

আমাদের মধ্যে দেখা যায় অনেকেই পানি পান করার সময় একসাথে অনেক পানি মুখে বলে ফেলেন। আপনি কি জানেন? তা দেহের জন্য খুবই মারাত্মক।

এর ফলে আপনি বিভিন্ন ধরনের রোগের সম্মুখীন হতে পারেন। তাই আমরা যখন পানি পান করব অল্প করে পান করার চেষ্টা করব। 

তাহলে মারাত্মক রোগ থেকে বেঁচে যাবে ইনশাআল্লাহ। 

শরীরে পানির চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করে কে জেনে নিন

পানি পান করার সঠিক নিয়ম
পানি পান করার সঠিক নিয়ম

আপনি কি জানেন? আমাদের দেহে পানির চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মস্তিষ্কে একটি প্লাটফর্ম রয়েছে।

এই প্ল্যাটফর্মের নাম হল থার্স্ট সেন্টার অর্থাৎ একে বাংলায় পিপাসা কেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। এই প্লাটফর্মটি হাইপোথেলামাস বিভাগে রয়েছে।

এ বিভাগটি আমাদের জানিয়ে দেয় আমাদের কখন পানি পান করা উচিত। এই থার্স্ট সেন্টার আমাদের শরীরে যদি সচল থাকে, তাহলে আমাদের দেহে পানির কোন কমতি হবে না।

তবে একটি জিনিস মাথায় রাখবেন অপারেশন কিংবা কোন কারণে আপনার থার্স্ট সেন্টার অথবা পিপাসা কেন্দ্রটি যদি অচল হয়ে পড়ে। তাহলে তা আপনার দেহের জন্য খুবই বিপদজনক।

পাশাপাশি আপনার দেহে পানি যতটুকু প্রয়োজন তার থেকে দুই শতাংশ কম হলেই ক্ষতি হতে পারে।

তাই আমাদের দেহে কতটুকু পানি প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই গ্রহণ করব। অন্যথায় অতিরিক্ত পানি গ্রহণ করলে কিডনির মাধ্যমে প্রসাবের রাস্তা দিয়ে দেহ থেকে বের হয়ে যায়।

তবে একটি জিনিস মাথায় রাখবেন আপনার কিডনি যদি সচল না থাকে, তাহলে তা দেহে জমা হয়ে মারাত্মক রোগের সৃষ্টি হতে পারে।

তাই বিভিন্ন দিক বিবেচনা করেই পানি পান করার সঠিক নিয়ম জানাটা খুবই জরুরি। 

কতটুকু পানি পান করা উচিত?

বিশেষ করে আমাদের বাংলাদেশে যারা অত্যন্ত পরিশ্রমের কাজ করে তাদের গড়ে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই লিটার অথবা তিন লিটার পানি পান করা উচিত।

তবে এটা ডিপেন্ড করবে তার কাজে পরিশ্রম কতটুকু। তাই আমাদের পানি খাওয়ার নিয়ম জেনে পান করুন। 

কেন পানি পান করব? 

  • আমরা যখন জ্বরে আক্রান্ত হই, তখন পানি পান করব। কেননা আমাদের দেহের তাপমাত্রা বাড়লে পানির প্রয়োজন হয়। 
  • আমাদের মধ্যে কারো যদি কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ হয়, তাহলে প্রচুর পানি পান করুন।
  • আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা কিছু ওষুধ গ্রহণ করি যা খেলে আমাদের প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হয়। বিশেষ করে আমরা যখন কোন এন্টিবায়োটিক ঔষুধ গ্রহণ করি, তখন পানি পান করার প্রয়োজন হয়। 
  • আপনার প্রসাবের কালার যদি হলুদ অথবা লালচে হয়, তাহলে বুঝে নিতে হবে আপনার দেহে পানির প্রয়োজন আছে।
  • ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে পানি সাহায্য করে। 
  • পাশাপাশি পানি পান করলে আপনার ত্বক ফর্সা হয়ে যাবে।
  • বিভিন্ন রোগ আছে যেগুলোর কারণে আপনাকে বেশি বেশি পানি পান করতে হবে। এই রোগগুলো হলো বদহজম, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং শ্বাসযন্ত্রে কোন সমস্যা থাকলে। 
  • আপনার দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হলে পরিমাণমতো পানি পান করতে হবে।
  • গোসল করার পূর্বে পানি পান করুন তাতে আপনার রক্তচাপ কমবে।
  • তাই পানি পান করার সঠিক নিয়ম জানুন। 

বেশি পানি পান করলে যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হবেন 

বেশি পানি পান করলে যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হবেন তা নিচে দেওয়া হল।

  • আমরা সবাই জানি অতিরিক্ত কোন কিছুই গ্রহণ করা ভালো নয়। ঠিক তেমনি ভাবে আপনি পানি যদি বেশি পানি পান করুন তাহলে আপনার ত্বক সাদাটে হয়ে যাবে।
  • দেহ থেকে প্রসাবের রাস্তা দিয়ে প্রচুর খনিজ পদার্থ বের হয়ে যাবে।
  • ফলে আপনার দেহ অনেকটাই দুর্বল হয়ে যাবে। 
  • কিডনি, রক্তনালী এবং হৃদপিণ্ডতে বেশি প্রেসারের সৃষ্টি হবে।  
বিশুদ্ধ পানি গ্রহণ করবেন

আমরা অনেকেই  বিভিন্ন জায়গা থেকে পানি পান করে থাকি কিন্তু আপনি জানেন কি? আমাদের শরীরে অধিকাংশ রোগই বিশুদ্ধ পানি  পান না করার কারণে হয়ে থাকে।

তাই পানি পান করার সময় আমাদের অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি গ্রহণ করতে হবে। ভুলেও কখনো  দূষিত পানি গ্রহণ করবেন না।

অন্যথা আপনি টাইফয়েড এর মতো মারাত্মক রোগের শিকার হতে পারেন।

দাঁড়িয়ে পানি পান করবেন না

আমাদের অধিকাংশ যুবক-যুবতী দাঁড়িয়ে পানি পান করে।

আসলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশেষ করে ইসলামেও দাঁড়িয়ে পানি পান না করার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে  বৈজ্ঞানিক যুক্তি রয়েছে।

দাঁড়িয়ে পানি পান করলে দেখা যায় শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় থাকে না। ফলে আমাদের দেহে আর্থাইটিস রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

গরমের সময় বেশি পানি পান করুন

গরমের সময়ে আমাদের প্রত্যেকের উচিত বেশি পানি পান করা। কেননা তখন পরিবেশের তাপমাত্রা অন্যান্য ঋতুর চেয়ে অনেক বেশি থাকে।

ফলে আমাদের দেহ থেকে ঘামের মাধ্যমে অনেক পানি বের হয়ে যায়। তাই আমাদের দেহ বেশি পানির প্রয়োজন অনুভব করে। 

ওজন বুঝে পানি পান করুন

আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত ওজন বুঝে পানি পান করা।

তাহলে আমাদের দেহে পানির ভারসাম্য বজায় থাকবে। অর্থাৎ ওজনের মাত্রা অনুযায়ী পানি পান করুন।

ধরে নিন আপনার ওজন দুইশত পাউন্ড, তাহলে আপনাকে দুই-তৃতীয়াংশ পানি পান করতে হবে।

অর্থাৎ একশত তেত্রিশ আউন্স পানি পান করতে হবে। তবে একটি জিনিস মাথায় রাখবেন এক লিটার পানির পরিমাণ চৌত্রিশ আউন্স। 

ঘুমের পূর্বে পানি গ্রহণ করুন

আপনারা একটি অভ্যাস গড়ে তুলবেন তা হলেও ঘুমের পূর্বে পানি পান করবেন।

কেননা আপনি যদি এই অভ্যাসটি করে ফেলেন, তাহলে হার্ট অ্যাটাকের মতো মরণব্যাধি রোগ থেকে বেঁচে যাবেন ইনশাল্লাহ।

কফি বা অ্যালকোহল পানির চাহিদা পূরণ করে কি? 

তবে একটি জিনিস মাথায় রাখবেন কফি বা অ্যালকোহল কখনোই দেহে পানির চাহিদা পূরণ করে না।

তা পানির ঘাটতি পূরণ করবে না তবে আপনার প্রস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধি করবে। 

পানি জাতীয় ফল খাবেন

দৈনন্দিন পানি জাতীয় ফল খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এগুলো হলো ব্রকলি, গাজর, শসা, পাম এবং তরমুজ। এসব ফলে পানির পরিমাণ বেশি থাকে।

এগুলো থেকে আপনি ভিটামিন এবং মিনারেল পেতে পারেন। 

আরো পড়ুনঃ মাইগ্রেন এর লক্ষণ ও প্রতিকার

পানি পান করার সুন্নত গুলো জেনে নিন

নিচে পানি পান করার কিছু সুন্নত দেওয়া হল।

  1. প্রথমেই পানি ভাল করে দেখে নিন ভিতরে ক্ষতিকারক পদার্থ আছে কিনা। 
  2. বিসমিল্লাহ বলে পানি পান করুন।
  3. পান করার সময় ডান হাত ব্যবহার করবেন।
  4. সর্বদা বসে পানি পান করবেন।
  5. তিনবারে পানি পান করার চেষ্টা করবেন।
  6. আপনার নিঃশ্বাস যাতে পানির গ্লাসে না যায়।
  7. পানি পান করে আলহামদুলিল্লাহ বলবেন।

আশাকরি পানি পান করার সঠিক নিয়ম সহ বিস্তারিত তথ্য জেনেছেন। আমাদের ফেসবুক পেইজ অনুসরণ করুন। পাশাপাশি নিচের ভিডিওটি দেখুন।

Source: https://www.prothomalo.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.