প্রোটিন জাতীয় খাবার তালিকা। উচ্চ প্রোটিন যুক্ত খাবার তালিকা

প্রোটিন জাতীয় খাবার তালিকা। উচ্চ প্রোটিন যুক্ত খাবার তালিকা জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন। প্রাপ্ত বয়স্ক ও গর্বভতী মহিলাদের প্রতিদিন প্রোটিনযুক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত।

প্রাপ্ত বয়স্কদের খাবারের পরিমাণ ৪৬   থেকে ৬৩  গ্রাম।  আর মহিলাদের মধ্যে যাদের গর্ভে সন্তান আছে তাদের জন্য ৬৫  গ্রাম।

আমাদের মধ্যে যুবকরা যারা খেলাধুলা করি অথবা যারা খেলোয়াড় তাদের জন্য প্রোটিন জাতীয় খাবার গ্রহণ করা উচিত।

আজ আমি আপনাদের সামনে কিছু খাবার তুলে ধরবো যে গুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন আছে। চর্বিযুক্ত মুরগি এবং মাছের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে।

পাশাপাশি আর্থিক গরুর মাংস খেতে পারেন।  কেননা তা প্রোটিনের  অন্যতম উৎস। আরো বিভিন্ন রকমের খাবার আছে।

এগুলো হলো মটরশুটি, মসুর ডাল, দই যেগুলোতে ফ্যাট কম থাকে, বিভিন্ন রকমের বাদাম,  বীজ এবং ডিমসহ অনেক রকমের খাবার যা আমরা দৈনন্দিন জীবনে খেয়ে থাকি।

আজ আমি তৈরি করেছি আমাদের দেহের জন্য উপকারী পঁয়ত্রিশটি প্রোটিন জাতীয় খাবারের তালিকা।

এই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গুলি আমাদের পেশী তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রোটিন জাতীয় খাবার কী কী তা জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন।

আরো পোষ্ট পড়ুনঃ ৬ মাস শিশুর খাদ্য তালিকা ২০২২

Contents hide

চিংড়ি মাছ 

চিংড়িতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আছে। এই উপাদানগুলো হলো ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম,পটাশিয়াম এবং সোডিয়াম। এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি একশত গ্রাম চিংড়িতে চব্বিশ গ্রাম প্রোটিন থাকে। এর মধ্যে কিছু পরিমাণ ফ্যাট ও থাকে। ফ্যাটের পরিমাণ হল ০.৩ গ্রাম।

আলু

আলু এমন একটি খাবার যা আমরা সবাই খেয়ে থাকি। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও পুষ্টি আছে। এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে এতে চার গ্রাম প্রোটিন থাকে।

তা খাওয়ার সময় আমাদের সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। আমাদের কোন জিনিস অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। 

আলুর মধ্যে এমন একটি উপাদান আছে যা আপনার ক্যালরির পরিমাণ বৃদ্ধি করবে যদি আপনি বেশি খান।

অন্য পোষ্ট পড়ুনঃ আমলকির উপকারিতা ও অপকারিতা

ফুলকপি সবজি

ফুলকপি আমরা  সবজি হিসেবে খেয়ে থাকি। তবে মজার বিষয় হলো ফুলকপিতে ক্যালরির সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে।

আমেরিকার এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, এক পেয়ালা পরিমাণ কাটা ফুলকপিতে ক্যালরির পরিমাণ সাঁতাশ গ্রাম। এবং দুই গ্রাম প্রোটিন আছে।

অন্য পোষ্ট পড়ুনঃ কাজু বাদামের ১৭ টি উপকারিতা

ডিম

ডিমের মধ্যে রয়েছে বিশেষ তিনটি উপাদান। এগুলো হলো প্রোটিন, পুষ্টি এবং ফ্যাট। একটি গবেষণায় দেখা গেছে ডিম খেলে মানুষ তৃপ্তি পায় এবং তাদের পেটে খিদা আস্তে আস্তে অনেকটা কমে যায়। 

অর্থাৎ যারা অতিরিক্ত পরিমাণ খাবার  গ্রহণ করেন,  তাদের   জন্য ডিম খাদ্য হিসেবে খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

গরুর মাংস সম্পর্কে জেনে নিন

গরুর মাংস এমন একটি খাদ্য যা খেতে আমাদের সবারই আগ্রহ থাকে। প্রতিকেজিতে গরুর মাংসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে।

আপনার শরীরে প্রোটিন যোগাতে গরুর মাংস খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এর মধ্যে মাঝারি পরিমাণ শর্করা রয়েছে। যারা ডায়েট করেন তাদের প্রত্যেকের গরুর মাংস খাওয়া উচিত।

স্বল্প কার্ব ডায়েট হিসেবে খাদ্য তালিকায় গরুর মাংস রাখতে পারেন। 

প্রোটিন জাতীয় খাবারের তালিকায় ওটস

প্রোটিন জাতীয় খাবার
প্রোটিন জাতীয় খাবার

আমরা সবাই জানি ওটস হল একপ্রকার খাদ্যশস্য। প্রত্যেকটি শস্য একটি মৌসুমে জন্ম নেয়। শীতের মৌসুমে  এই শস্যটির  চমৎকার ফলন হয়। 

মানুষের পাশাপাশি পশুপাখিও এই শস্যটি খেয়ে থাকে। আমদের শরীরের জন্য পুষ্টি দায়ক খাদ্য হিসেবে পরিচিত। প্রোটিন জাতীয় খাদ্য তালিকায় শস্যটি স্থান করে নিয়েছে।

এই শস্যটি দিয়ে বিস্কুট এর কেক বানানো হয়।আমরা সকালে মাঝে মাঝে ওটস খেয়ে থাকি নাস্তা হিসেবে। প্রতি একশত গ্রাম ওটসে রয়েছে সতেঁরগ্রাম প্রোটিন।

ওটসগুলো বাদামের আকৃতির মত। ওটস এর মধ্যে যে প্রোটিন রয়েছে তা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

তাই আমাদের প্রতিদিন ওটস খাওয়া উচিত।

টুনা মাছ সম্পর্কে জেনে নিন

টুনা হলো এক প্রকার চর্বিসমৃদ্ধ মাছ। টোনা মাছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে। এই মাছের ক্যালরির সংখ্যা খুবই কম থাকে।

যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। টুনা মাছ কি বিভিন্নভাবে আপনি খেতে পারবেন। আমি সালাদ এবং স্যান্ডউইচ এর সাথে মিশ্রিত করে খেয়ে থাকি।

যা অত্যন্ত সুস্বাদুকর। পাশাপাশি আপনারা স্ন্যাকসের সাথে মিশ্রিত করে খেতে পারেন।

প্রোটিন জাতীয় খাবারের তালিকায় পেয়ারা

পেয়ারা এমন একটি ফল যা আমরা সবাই খেতে ভালোবাসে। এই ফলটি গ্রীস্মকালে উৎপন্ন হয়।

এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন যা অন্যান্য ফলের তুলনায় অনেক বেশি।  এক গবেষণায় দেখা গেছে যারা প্রতিদিন পেয়ারা খায় তাদের প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়।

তাছাড়া পেয়ারাতে আছে ভিটামিন সি যা অতিরিক্ত পুষ্টি সরবরাহ করে আমাদের দেহের জন্য।

ছোলা খাবার

ছোলাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য উপকারী প্রোটিন। এই খাবারটিতে একটি বিশেষ উপাদান আছে যার নাম ফাইবার।

এই উপাদানটি আপনার হৃদপিণ্ড এবং হারকে সুস্থ রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

পাশাপাশি আপনার শরীরে ক্যান্সারের সেলগুলোকে নষ্ট করে দেয়।

প্রোটিন জাতীয় খাবারের তালিকায় বাদাম

বাদাম এমন একটি খাবার যা আমরা সবাই খেয়ে থাকি এবং আমরা তা পছন্দ করি। তাই প্রকার ছোলাযুক্ত খাবার। উচ্চ ক্যালোরি সম্পন্ন বাদামে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন।

যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। বাদাম আমাদের হরমোন বৃদ্ধিতে খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

প্রতিদিন সকালে নাস্তা হিসেবে দুধের সাথে মিশিয়ে বাদাম খেতে পারেন। যা খেতে খুবই সুস্বাদু।

স্বাস্থ্য উপকারী দুধ

প্রোটিনের অন্যতম উৎস হলো গরুর দুধ। দুধ এমন একটি খাবার যা আমরা সবাই প্রতিদিন খেতে পারিনা। কিন্তু আমরা তা খেতে খুবই পছন্দ করি। 

প্রতি এক পেয়ালা তে রয়েছে এক গ্রাম প্রোটিন একটি আমেরিকান গবেষণায় প্রমাণিত।

তাই প্রতিদিন দুধ খেয়ে আপনি প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতে পারেন।

খাদ্য হিসেবে মসুর ডাল

মসুর ডাল এমন একটি খাদ্য যাতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায়। পাশাপাশি এতে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যার নাম ফাইবার।

মসুর ডালের মূল্য অনেক কম যা আমরা সবাই কিনতে পারি। তা আপনার হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

কুমড়োর বীজ সম্পর্কে জেনে নিন

কুমড়োর বীজে রয়েছে অনেকগুলো স্বাস্থ্য উপকারী উপাদান। এগুলো হলো প্রোটিন, খনিজ, ম্যাগনেসিয়াম এবংসেলেনিয়াম।

আপনি যদি ওজন কমাতে চান তাহলে শুকনো ভাজা কুমড়োর বীজ খেতে পারেন। তবে একটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে আপনারা তেলেভাজা কুমড়োর বীজ খেতে পারবেন না।

তাহলে উলটো আপনাদের পেটের ভুঁড়ি বাড়বে।

খাবার হিসেবে দই ও মটরশুটি

আমরা সবাই অবগত যে দই হল একটি মজাদার খাবার। আমরা সবাই দই খেতে ভালোবাসি। প্রতি এক কাপ দই আঠার থেকে পচিশ গ্রাম প্রোটিন থাকে।

তাই সম্ভব হলে প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এক কাপ দই খেতে পারেন। মটরশুটি এমন একটি খাবার যা আমরা বিভিন্নভাবে খেয়ে থাকি।

এক কাপ মটরশুটিতে পচিঁশ গ্রাম প্রোটিন আছে। তা আপনার শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে আপনাকে সুস্থ রাখে। 

খাদ্য হিসেবে মুগ ডাল

প্রোটিন জাতীয় খাবারের তালিকায় মুগ ডাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করতেছি।

মুগ ডালের মাধ্যমে আমরা খিচুড়ি খেয়ে থাকি। একশত গ্রাম মগডালে চব্বিশগ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। পাশাপাশি ফ্যাটের পরিমাণ খুবই কম।

মুগডালে শর্করার মাত্রা খুবই কম এবং হজম হয় তাড়াতাড়ি।

প্রোটিন জাতীয় খাবার মাছ 

মাছ আমাদের আমিষের ঘাটতি পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। একশত গ্রাম মাছে একুশ থেকে পচিঁশ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে।

ফ্যাটের পরিমাণ শরীরের অনুকূলে। মাছের ফ্যাট আপনার ত্বককে করতে পারে উজ্জ্বল। পাশাপাশি আপনার হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

তবে আমাদের একটি কথা মাথায় রাখতে হবে যে মাছগুলোতে চর্বি বেশি সেগুলো আমাদের না খাওয়াই ভালো।

সয়াবিন নিয়ে যত কথা

আমিষের অন্যতম উৎস হিসেবে সয়াবিন ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। একশত গ্রাম সয়াবিনে বায়ান্ন গ্রাম প্রোটিন রয়েছে।

আপনি জানলে অবাক হবেন এতে ফ্যাটের পরিমাণ মাত্র ০.৫ গ্রাম যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারী। 

তাই প্রোটিন যুক্ত খাবারের তালিকায় এই উপাদানটির জুড়ি নেই। 

শিমের বিচি ও পনির সম্পর্কে জেনে নেই

আমিষ খাদ্য হিসেবে শিমের বিচি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। একশত গ্রাম শিমের বিচিতে  রয়েছে একুশ গ্রাম প্রোটিন।

সুষম খাদ্য তালিকায় শিমের বিচি স্থান করে নিয়েছে। তাই প্রতিদিন শিমের বিচি রান্না করে তরকারি হিসেবে খেতে পারেন।

পনির খেতে খুবই সুস্বাদু আর আমরা সবাই তা খেতে পছন্দ করি। একশত গ্রাম পনিরে আছে পচিঁশ গ্রাম প্রোটিন আছে।

এবং ফ্যাটের পরিমাণ মাত্র ৩৩ গ্রাম। পাশাপাশি পনিরের শর্করা আছে এক গ্রাম।

প্রোটিন জাতীয় খাবারের তালিকায় চিকেন ব্রেস্ট

চিকেন ব্রেস্ট অথবা মুরগির বুকের মাংস একটি জনপ্রিয় খাদ্য। আর তাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন।  একশত গ্রাম চিকেন ব্রেস্ট এ রয়েছে একত্রিশ গ্রাম প্রোটিন।

এবং ফ্যাটের পরিমাণ মাত্র পাঁচ গ্রাম। মুরগির অন্যান্য পাশের মাংস গুলোতে ফ্যাটের পরিমাণ বুকের মাংস থেকে অনেকটাই বেশি।

তাই আমার পরামর্শ হলো আপনারা বুকের মাংস খেতে পারেন।

টার্কি মুরগির মাংস

টার্কি মুরগির মাংস খেতে খুবই সুস্বাদু।কিন্তু আমাদের দেশে এই মুরগিটি প্রচলন বেশি নয়।  এই মুরগির মাংস আমিষের উৎস হিসেবে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।

একশত গ্রাম টার্কি মুরগির মাংসে সাঁতাশ গ্রাম প্রোটিন আছে। ফ্যাটের পরিমাণ নয় থেকে তেরো গ্রাম। যা আমদের দেহের অনুকূলে। 

স্যালমন মাছ খান প্রোটিন বাড়ান

একটি প্রবাদ আছে সালমান খান প্রোটিন বাড়ান। এই মাছ একপ্রকার চর্বিযুক্ত মাছ। এর মধ্যে রয়েছে একটি স্বাস্থ্য উপকারী এসিড।

যার নাম ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড। সালমান প্রোটিনের এক চমৎকার উৎস। যদি সম্ভব হয় প্রতিদিন এই মাছ খেতে আপনার প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।

এই মাছের বিশেষত্ব হলো তা যেকোনো ব্যক্তি খেলে সন্তুষ্টি লাভ করে।  অর্থাৎ আপনি খেয়ে মজা পাবেন।

প্রোটিনসমৃদ্ধ মুরগির গিলা

আমাদের মধ্যে অধিকাংশই মুরগির গিলা খেতে পছন্দ করি না। আপনি কি জানেন মুরগির গিলা অনেক প্রোটিন রয়েছে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে একশত গ্রাম মুরগির গিলাতে বিশ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে।

পাশাপাশি মুরগির গিলাতে  ফ্যাটের পরিমাণ খুবই কম যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আর তা মাত্র তিন শতাংশ। 

সূর্যমুখী নিয়ে যত কথা

আসলে আমি আপনাদের সাথে সূর্যমুখী বিচির কথা বলছি।  একশত গ্রাম সূর্যমুখী বীজে রয়েছে একুশ গ্রাম প্রোটিন। এবং পেট মাত্র পনের গ্রাম।

পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এগুলো হলো আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম সোডিয়াম এবং ভিটামিন বি৬। 

প্রোটিন জাতীয় খাবারের তালিকায় কাজুবাদাম 

কাজুবাদাম আমরা সবাই পছন্দ করে থাকি।  আর তা খেতে খুবই সুস্বাদু। প্রোটিন জাতীয় খাবারের তালিকায় কাজুবাদাম ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।

এতে শতকরা বাইশ ভাগ প্রোটিন আছে। যতটুকু ফ্যাট দরকার তার সবই এর মধ্যে বিদ্যমান আছে যা আমাদের শারীরিক কাঠামো কে মজবুত করে তোলে।

খাসির মাংস খেতে মজা

কথায় আছে খাসির মাংস খেতে মজা। আমাদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে গরুর মাংস খেতে পারে না অর্থাৎ তার জন্য খাওয়া নিষেধ।

তাই আমি তাদেরকে বলবো আপনারা খাসির মাংস খাওয়ার মাধ্যমে আপনাদের প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতে পারবেন। তবে এলার্জি যাদের আছে তাদের ব্যতীত।

একশত গ্রাম খাসিত পঁচিশ গ্রাম প্রোটিন আছে।  খাসির মাংসে ফ্যাটের পরিমাণ সর্বোচ্চ একুশ গ্রাম। তাই প্রোটিনের অন্যতম উৎস হিসেবে আপনি খাসির মাংস খেতে পারেন।

অন্য পোষ্ট পড়ুনঃ কাচা কলার উপকারিতা

পিনাট বাটার সম্পর্কে জেনে নিন 

পিনাট বাটার এই খাবারটি আমাদের দেশে ততটা প্রচলিত নয়। বাদাম ও দুধের সমন্বয়ে এই খাদ্যটি উৎপন্ন করা হয়।

একশত গ্রাম পিনাট বাটারে পঁচিশ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এই খাবারটিতে ফ্যাট মাত্র দশ গ্রাম। 

প্রোটিন জাতীয় খাবারের তালিকায় গমের রুটি

রুটি জগতে গমের রুটি সবচেয়ে বেশি মজাদার। এই খাবারটি আমিষে ভরপুর। এতে প্রায় তেরো ভাগ প্রোটিন আছে।

এতে ফ্যাটের পরিমাণ খুবই কম তাই প্রোটিন জাতীয় খাবার হিসেবে তা সবার কাছে পরিচিত। 

আখরোট খান প্রোটিন বাড়ান 

একটি প্রবাদ আছে আখরোট খান প্রোটিন বাড়ান যা আমরা সবাই জানি। বিশেষ করে আখরোট খেতে আমি নিজেও পছন্দ করি।

এতে প্রচুর পরিমাণে আমিষ বিদ্যমান আছে। একশত গ্রাম আখরোটে রয়েছে পনের গ্রাম প্রোটিন। 

প্রোটিন জাতীয় খাবার শুটকি মাছ ও শণ বীজ 

শুটকি মাছের ভর্তা আমরা সবাই পছন্দ করি।  বিশেষ করে আমি নিজেও শুটকি মাছের ভর্তা হলেই আর কোন তরকারি খাওয়ার প্রয়োজন হয় না।

অন্যান্য খাবার থেকে এই শুটকি মাছের প্রোটিনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। একশত গ্রাম শুটকি মাছে প্রায় ৬৩ গ্রাম প্রোটিন থাকে।

প্রোটিন জাতীয় খাবার হিসেবে শণ বীজ বিখ্যাত। এতে প্রোটিনের পরিমাণ সাঁত থেকে দশ ভাগ।

প্রোটিন জাতীয় খাবার এর  তালিকায় বাদামী চাল ও এভোকোডা

বাদামী চাল যা আমরা ইংরেজিতে ব্রাউন রাইস বলে থাকি। এই চালের ভাত খেতে খুবই মজা। প্রোটিনের অন্যতম উৎস হিসেবে গবেষকরা খাদ্য তালিকায় বাদামী চাল অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছেন।

এভোকোডা একপ্রকার ভিনদেশি ফল। বহির্বিশ্বে এর চাহিদা প্রচুর। পাশাপাশি আমাদের দেশেও ইদানীং এই ফল সবাই খেতে শুরু করছে।

বলা যায় আমাদের দেশেও এর ব্যাপক চাহিদা আছে। একশত গ্রাম এভোকোডাতে দুই থেকে পাঁচ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন থাকে।

বার্লি অথবা যব

বার্লি একপ্রকার খাদ্যশস্য যা প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ খেয়ে আসছে। যদিও তা আমাদের দেশে অনেকেই এর নাম জানেনা।

কিন্তু এই শস্যটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি রয়েছে এর পুষ্টিগুণ। একশত গ্রাম বার্লিতে প্রায় তেরো গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।

প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে কি হয়

প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে আপনার শরীরের বিকাশ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

তবে পরিমাণমতো প্রোটিন জাতীয় খাবার গ্রহণ করবেন। অন্যথায় আপনার ক্ষতি হতে পারে।

আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। এখন আপনারা আমাকে বলতে পারেন ভাই, কোন খাবারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়?

এর উওর হল মাছ, মাংস, দুধ, ডিম,ওটস, আলু, ওটস, টুনা মাছ, পেয়ারা, ছোলা খাবার, বাদাম এই সকল খাবারে বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়।

প্রোটিন জাতীয় খাবারের উপকারিতা

আশা করি সম্পূর্ণ আর্টিকেল পড়ে প্রোটিন জাতীয় খাবার এর উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

তাও কিছু বিষয় বলে দেই। এই খাবার আপনার দেহ বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

পাশাপাশি দেখা যায় আমাদের মধ্যে অনেকেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অভাবে অনেকদিন যাবৎ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

বিশেষ করে আমি গত এক বছর জ্বরে আক্রান্ত ছিলাম শুধু প্রোটিন জাতীয় খাবারের অভাবে যাইহোক এই খাবারটি পাশাপাশি আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

আশা করি প্রোটিন জাতীয় খাবার তালিকা। উচ্চ প্রোটিন যুক্ত খাবার তালিকা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।  একজন মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের এই প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি আমাদের ফেসবুক পেইজের সাথে যুক্ত থাকুন। এইরকম খাদ্য সম্পর্কিত আর্টিকেল পেতে Foodtips24 ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত থাকুন।

প্রতিদিন কি প্রোটিন খাওয়া উচিত?

হ্যা অবশ্যই প্রতিদিন প্রোটিন খাওয়া উচিত।

আমদের দেহে প্রোটিন কেন দরকার?

আমাদের দেহ বিকাশের জন্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য।

উচ্চ শ্রেনীর প্রোটিন জাতীয় খাবার কোনগুলো?

মাছ, মাংস, দুধ, ডিম,ওটস, আলু, ওটস, টুনা মাছ, পেয়ারা, ছোলা খাবার, বাদাম ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.