কাজু বাদামের ১৭টি উপকারিতা জানুন।

আজ আমি কাজু বাদামের উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব। কাজু বাদাম আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি দানাদার খাদ্য।

এর মাহাত্ম্য আমরা কেউই অস্বীকার করতে পারব না। কাজুবাদামের আদিনিবাস হলো ব্রাজিল। এই গাছটি ওই রাজ্যে উৎপন্ন হয়।

আরো পড়ুনঃ ওটস এর উপকারিতা

উষ্ণ আবহাওয়াতেই এই খাদ্যটির চাষ হয়। চিবিয়ে এবং রান্না করে দুইভাবেই কাজু বাদাম খেতে পারবেন। সেমাই এবং ফিরনিতে মিশ্রিত করে খেতে পারেন।

একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে,  যে ব্যক্তি প্রতিদিন চার থেকে পাঁচটি কাজু বাদাম খাবে, তার দেহে খনিজ পদার্থ ও পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি কখনো থাকবে না।

এই বাদামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে। তাই, ডাক্তাররা এই বাদামকে প্রাকৃতিক ভিটামিন ট্যাবলেট হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন।

খনিজ পদার্থ এবং পুষ্টিতে এই কাজুবাদাম ভরপুর। এই বাদামে রয়েছে আরও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

এগুলো হলো  প্রোটিন, আঁশ এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি। এর ইংরেজি শব্দ হল ক্যাশিওনাটস। মাংসে যতটুকু প্রোটিন আছে ঠিক ততটুকু প্রোটিন কাজুবাদামে পাওয়া যায়।

এটি একটি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। পাশাপাশি এই বাদামে শর্করা ও পাওয়া যায়। নিচে কাজুবাদামের কিছু উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

Contents hide

এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজু বাদামের উপকারিতা

কাজু বাদামে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানটি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। গবেষকরা এই বাদামকে এন্টিঅক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

এই বিশেষ উপাদানটি হৃদরোগ, চোখের সমস্যা এবং স্মৃতিতে কোন সমস্যা হলে তা দূরীভূত করে। ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এন্টিঅক্সিডেন্ট খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

ওজন হ্রাসে কাজুবাদামের উপকারিতা

ওজন হ্রাস করতে চাইলে প্রতিদিন কাজুবাদাম খেতে পারেন। কারণ এটি কম ক্যালরি এবং উচ্চ চর্বিসমৃদ্ধ খাদ্য।

ব্রাজিলে ২০১৭ সালে গোই আইস ফেডারেল ইউনিভার্সিটির “ফ্যাকাল্টি অফ নিউট্রিশন বিভাগ” কাজু বাদাম নিয়ে একটি গবেষণা করেছে।

এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা প্রতিদিন কাজু বাদাম খায়, তাদের ওজন তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই বাদাম টি প্রোটিন এবং চর্বিজাতীয় হওয়ায় পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে।

এভাবে আমরা দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি। কাজু বাদাম খেতে মিষ্টি হলেও অন্যান্য বাদামের তুলনায় এতে ক্যালোরি এবং চর্বি সংখ্যা অত্যন্ত কম যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

এক কাপ কাজু বাদামে একশত সাত্রিশ পরিমান ক্যালরি থাকে। ২০১৯ সালে আমেরিকার বেল্টসবল হিউম্যান নিউট্রিশন রিসার্চ বিভাগ বাদামের ক্যালরি নিয়ে একটি গবেষণা করেছে।

এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, মানব শরীর ৮৪ শতাংশ ক্যালরি গ্রহণ করতে পারে। আর বাকি ক্যালোরি বাদামের  উপরে থেকে যায়। তাই, ওজন কমাতে কাজুবাদামের কোনো জুড়ি নেই।

রক্তচাপ কমাতে কাজুবাদামের উপকারিতা

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ লোক উচ্চ রক্তচাপে ভোগে। কারেন্ট ডেভলপমেন্টস ইন নিউট্রিশন ২০১৯ সালে একটি সমীক্ষা প্রকাশ করেছে।

এর ফলাফল হল যে ব্যক্তি কাজুবাদাম প্রতিদিন খাবে, তার রক্তচাপ ধীরে ধীরে কমে যাবে। ট্রাই গ্লিসারাইড আমাদের মানব শরীরের একটি ক্ষতিকারক চর্বি। 

এই চর্বির কারণে  হার্ট অ্যাটাক থেকে শুরু করে স্ট্রোক এবং হৃদরোগ পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে কাজু বাদাম খেলে আপনার এই ক্ষতিকারক চর্বি ধীরে ধীরে কমে যাবে ইনশাল্লাহ। তবে

আপনাদের একটি জিনিস মাথায় একটু হবেই কাজুবাদামের লবণ মিশ্রিত করবেন না। অন্যথা রক্তচাপ বৃদ্ধি পাবে।

ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে

আমাদের দেহে দুই প্রকার কোলেস্টেরেল রয়েছে। এগুলো হলো এলডিএল এবং এইচডিএল।

এলডিএল আমাদের শরীরে ক্ষতিকারক চর্বি কমাতে সাহায্য করে এবং এইচডিএল এই চর্বি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

তাই, আমাদের শরীরে এলডিএলের মাত্রা কম এবং এইচডিএলের মাত্রা বেশি থাকা অত্যাবশ্যক। এই ক্ষেত্রে কাজুবাদাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন জার্নাল ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে কোলেস্টেরলের দিক থেকে কাজুবাদাম কতটুকু কার্যকর এই নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কাজু বাদাম খেলে আমাদের দেহে ক্ষতিকারক কলেস্টেরল ‘এল্ডিএল’ এর মাত্রা হ্রাস পায় এবং উপকারী কোলেস্টেরল এইচডিএলের মাত্রা বেড়ে যায়।

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে

যুক্তরাজ্যের জার্নাল অফ নিউট্রিশন বিভাগ ২০০৭ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যারা সপ্তাহে সাত থেকে আটবার কাজুবাদাম খায় তাদের হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা ৩৮  শতাংশ কমে যায়। ২০১৮ সালের জার্নাল অফ নিউট্রিশন এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, যারা বারো সপ্তাহ লবণ ব্যতীত ত্রিশ গ্রাম কাঁচা কাজুবাদাম খায়,

তাদের টাইপ টু ডায়াবেটিস পাওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। কাজুবাদাম থেকে দুইটি উপকারী ফ্যাটি এসিড উৎপন্ন হয়।

এগুলো হলো মনোআনস্যাচুরেইটেড এবং পলিআনস্যাচুরেইটেড।

এই দুইটি এসিড আমাদের দেহের এলডিএলের মাত্রা কমাতে এবং এইচডিএলের মাত্রা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই আমাদের হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে।

রক্তের শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে কাজুবাদামের উপকারিতা

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে কাজুবাদাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যারা ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন, তারা কাজু বাদাম খেলে রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

একটি আন্তর্জাতিক এন্ড্রোক্রিনোলজি এন্ড মেটাবলিজম জার্নালে ২০০৯ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যারা টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগী ভুগছে,  তারা প্রতিদিন কাজু বাদাম খেলে ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়।

ফলে তাদের ডায়াবেটিস ও ভালো হয়ে যায়। এই বাদামটি আঁশ জাতীয় হওয়াই রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং গ্লুকোজ নিসরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

তাই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজু বাদামের উপকারিতা

আপনার যদি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে, তাহলে আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং লোহিত রক্ত কণিকা বৃদ্ধি করবে।

এই বাদামে ফাইবার উপাদানটি থাকায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

কোষের ক্ষয় থেকে আমাদের রক্ষা করে

কাজুবাদাম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ একটি খাবার। ফ্রিরেডিকেল এর কারণে আমাদের দেহে কোষের ক্ষয়রোধ হয়। এন্টিঅক্সিডেন্ট এই ক্ষয়রোধ থেকে আমাদের বাচায়।

কাজুবাদামে দুই ধরণের এন্টি-অক্সিডেন্ট এর উৎস পাওয়া যায়। এগুলো হলো পলিফেনল এবং ক্যারোটিনয়েড।

তাই ভাজা কাজু বাদাম খাবেন কেননা তাতে এন্টিঅক্সিডেন্ট এর পরিমাণ বেশি। ফলে আপনার কোষের ক্ষয়রোধ থেকে বেঁচে যাবেন ইনশাল্লাহ।

মুখ গহ্বরের রোগ থেকে রক্ষা করে

কাজুবাদামের রয়েছে ফসফরাস নামক একটি বিশেষ উপাদান যা আমাদের দাঁতকে সুস্থ রাখার মধ্যে দিয়ে মুখ গহ্বরে থাকা বিভিন্ন রোগ থেকে আমাদের বাঁচায়।

তাই দাঁতকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন কাজু বাদাম খাবেন। ফলে মুখ গহ্বরের রোগ থেকে বাঁচতে পারবেন।

অ্যানিমিয়ার রোগ হ্রাস করে

একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, কাজু বাদাম খাওয়ার সাথে সাথে আয়রনের ঘাটতি পূরণ হতে থাকে।

ফলস্বরূপ লোহিত রক্তকণিকা এত পরিমান বৃদ্ধি পায় যে অ্যানিমিয়া রোগ দূরীভূত হয়ে যায়। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে কাজুবাদাম

কাজুবাদামের একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে। এই উপাদানটির নাম হল কপার যা আমদের চুলের উজ্জ্বলতা এবং গোড়াকে শক্ত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

শুধু তাই নয়, কাজু বাদামে বিদ্যমান কপার দেহের ভিতরে এনজাইমের ক্ষরণ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ফলে আমাদের চুলের কালো রং দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারব।

ক্যান্সারব্যাধি দূর করে

এই বাদামটিতে এন্টিঅক্সিডেন্ট এর পরিমাণ অনেক যা ক্যান্সারের সেলগুলোকে একবারে নষ্ট করে দেয়।

তাই প্রতিদিন এক কাপ করে কাজু বাদাম খাওয়া উচিত। পাশাপাশি আমাদের শরীরে টিউমার হওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়।

কাজু বাদামে থাকা উপাদান প্রম্যান্থোসায়ানিডিন টিউমার হওয়া থেকে রক্ষা করে।

ব্রেনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে

বাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম উপাদানটি আমাদের নার্ভের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে, আমাদের মস্তিষ্কের শক্তি বেড়ে যায়।

একবার মস্তিষ্কের ক্ষমতা বেড়ে গেলে মস্তিষ্কের কগনিটিভ ফাংশন এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে আমাদের ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পেয়ে যায়।

সংক্রমণ ব্যাধি থেকে আমাদের রক্ষা করে 

কাজুবাদাম একটি প্রাকৃতিক উপাদান আছে। এই  উপাদানটির নাম হল জিংক যা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে আমাদের দেহকে বাঁচায়।

তাই আপনি যদি সংক্রমণ রোগে ভুগে থাকেন, তাহলে প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় কাজুবাদাম রাখবেন। 

হার্টের রোগ থেকে বাঁচায়

এই বাদামে বিদ্যমান এন্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ক্যান্সার ব্যাধি দূরীভূত করে ঠিক তেমনি ভাবে হার্টের রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করে।

তাই আপনাদের কারো হার্টের রোগ থেকে থাকলে কাজু বাদাম খেতে পারেন।

খালি পেটে কাজু বাদামের উপকারিতা জেনে নিন

আমাদের শরীরের শক্তির মূল উৎস কার্বোহাইড্রেট। এই বিশেষ উপাদানটি কাজু বাদামে রয়েছে। আমাদের দেহ এই উপাদানটি ভেঙ্গে গ্লুকোজে পরিণত করে। 

গ্লুকোজের কাজ হলো আমাদের দেহের কোষ এবং টিস্যুকে শক্তি প্রদান করা।

তাই খালি পেটে কাজু বাদাম খেলে আমাদের পরিপাকতন্ত্রগ্লুকোজকে কাজ করাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ থেকে বেঁচে যাবেন। এই বাদাম টিতে বিদ্যমান খাবার হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ হতে রক্ষা করে। 

কাজু বাদাম খাওয়ার নিয়ম কি জেনে নিই

বয়স ও পাত্রভেদে কাজু বাদাম খাওয়ার কিছু নিয়ম আছে। আসুন তা জেনে নেই। দুই বছর থেকে ছোট বাচ্চারা পনের থেকে বিশটি বাদাম খেতে পারবে।

প্রতি সপ্তাহে চার থেকে পাঁচবার খাওয়া উচিত। এবং দুই বছর থেকে বড় বাচ্চাদের জন্য বিশ থেকে পচিশটি কাজু বাদাম খেতে পারবে।

এবার আসুন জেনে নেই গর্ভবতী মহিলারা কি পরিমান কাজু বাদাম খাবে। তারা  নিয়মিত দশ থেকে পনের গ্রাম কাজু বাদাম গ্রহণ করবে।

এই বাদামের পরিমাণ ৩৫ থেকে ৬০ বাদামের সমান। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার গর্ভবতী মহিলারা বাদাম খেতে পারবে।

এখন আমি বলবো ডায়াবেটিস রোগীরা কিভাবে কাজু বাদাম খাবে। আমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক তারা ত্রিশ থেকে পত্রিশটি বাদাম খেতে পারবে।

আর বৃদ্ধরা পঞ্চাশ গ্রাম অথবা ত্রিশটি কাজু বাদাম খেতে পারবে। আশা করি কাজু বাদাম খাওয়ার নিয়ম জানতে পেরেছেন। 

কাজুবাদাম ভেজানুর নিয়ম

আপনি যদি কাজুবাদাম ভিজাতে চান তাহলে অবশ্যই পানিতে ফুটাতে হবে। এবং জীবাণুমুক্ত পানি হতে হবে।

তারপর ওই পানিতে ২ চামচ লবণ মিশ্রিত করবেন এবং পানি ঢেকে দিবেন।

এভাবে ৬ ঘন্টা অতিবাহিত হবে। তারপর কাজু বাদাম খেতে পারবেন  ইনশাআল্লাহ। 

কাজু বাদাম ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা জেনে নিই

 কাজু বাদামের উপকারিতা
কাজু বাদামের উপকারিতা

সাইট্রিক এসিড দূর করতে কাজুবাদাম সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কাজুবাদাম এর উপর এবং নিচের পৃষ্ঠায় সাইট্রিক এসিড রয়েছে।

আর তা মানুষের জন্য খুবই বিপদজনক। এসিডের মাত্রা তীব্র হলে শরীরে গ্যাস্ট্রিক হয়।

এই সাইট্রিক এসিড মিনারেল শোষণ বাধাগ্রস্ত করে।

তাই কাজু বাদাম ভিজিয়ে খেলে এই সাইট্রিক এসিড দূর হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। 

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম কমাতে কাজুবাদাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কাজু বাদামের মধ্যে বিদ্যমান উপাদান ইনহিবিটর এনজাইম গ্যাস্ট্রিকের তৈরি করে এবং ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম ও তৈরি হয়। ভিজেয়ে খেলে এনজাইম আর থাকবে না।

কাজু বাদামে বিদ্যমান ট্যানিন আমাদের হজমক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে। তাই ভিজিয়ে খেলে  ট্যানিন আপনার পেটে যাবে না।

এবং কোলনের কার্যক্রম ভালো রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি কোলনে থেকে বিষাক্ত উপাদানটি নষ্ট করে দেয়। কাজু তে বিদ্যমান সাইট্রিক এসিড মিনারেল শোষণে বাধাগ্রস্ত করে।

কাজু বাদামের ক্ষতিকর দিক জেনে নিই 

কোন কিছু অতিরিক্ত অতিরিক্ত গ্রহণ করা ভালো নয়। ঠিক তেমনি ভাবে কাজুবাদাম অতিরিক্ত খেলেই আপনার ডায়রিয়া হতে পারে কারণ এটি একটি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার।

আমরা প্রতিনিয়ত মাছ মাংস খাওয়ার মাধ্যমে প্রোটিন গ্রহণ করে থাকি। কাজুবাদাম প্রোটিন প্রচুর রয়েছে যা আপনার কিডনির জন্য ভালো না।

এই কাজুবাদামে ম্যাগনেসিয়াম নামক একটি উপাদান আছে যা ওষুধের মতো কাজ করে।

তাই কাজুবাদাম অতিরিক্ত খেলে আপনার ঔষধ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। 

আশা করি কাজু বাদামের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এবং আমাদের ফেসবুক পেইজের সাথে যুক্ত হোন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.