কাঁচা কলার উপকারিতা জেনে নিন।

আজ আমি কাঁচা কলার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব। কলা আমাদের একটি জনপ্রিয় ফল। আমরা সবাই এই  ফল বাসায় খেয়ে থাকি। তবে আপনি কি জানেন কাঁচ কলার উপকারিতা।

আমি প্রথমে কাঁচা কলার উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব। তারপর এর অপকারিতা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। কাঁচা কলা এমন একটি ফল যা সবাই পছন্দ করে।

এমনকি আমি কাঁচা কলা পছন্দ করি। আমাদের ঘরে মাঝে মাঝে কাঁচা কলা রান্না করা হয়। আর যখন   হোস্টেলে থাকি,তখন এই ফল  রান্না করে খাই।

কাঁচা কলা মূলত সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। আবার আমরা ভর্তা বানিয়ে খায়। যা খেতে অনেক সুস্বাদু।পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে কাঁচা কলাতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন রয়েছে।

এ ভিটামিন গুলো হলো ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিন,  কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি। নিচে কিছু উপকারিতা আলোচনা করা হল।

কোলেস্টেরল উপশমে কাঁচা কলা

কাঁচা কলার মধ্যে একটি বিশেষ উপাদান আছে। এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটির নাম হল ফাইবার। যা আমাদের শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

কোলেস্টেরল এমন একটি ক্ষতিকর উপাদান যা আমাদের কে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। এই খারাপ কোলেস্টেরল আমাদের রক্তের সাথে মিশে থাকে।

আমরা প্রতিদিন কাঁচা কলা খেলে তা ধীরে ধীরে কমে যাবে ইনশাল্লাহ। ফলে, হার্ট অ্যাটাক এর আশঙ্কা থেকে আমরা মুক্তি পাব।

আরো পড়ুনঃ ওটসের উপকারিতা

মাথা ব্যথা উপশমে

মাথা ব্যথা উপশমে কাঁচা কলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাঁচা কলা সেবন  আকারে মাথায় ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্যে উপকারী উপাদান গুলো আমাদের মেজাজ শান্ত রাখে।

কাঁচা কলার মধ্যে ব্যথা কমার একটি বিশেষ উপাদান আছে। এর নাম হল যৌগ। তা প্রচুর পরিমাণে এই ফলটিতে আছে। ফলে, আমাদের ব্যথা কমে যায় এবং আমরা সুস্থ থাকি।

ফাইবার সমৃদ্ধ কাঁচা কলা 

কাঁচা কলা ফাইবার সমৃদ্ধ একটি ফল। এই উপাদানটি আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী।  কাঁচা কলা খাওয়ার মাধ্যমে আমরা তা প্রতিদিন গ্রহণ করতে পারি।

ফাইবার হজমে সহায়তা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি কাঁচা কলা সিদ্ধ করেও খেতে পারেন। সিদ্ধ কাঁচা কলাতে ফাইবার উপাদানটি বেশি থাকে।

সঠিক নিয়মে খেতে পারলে ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা থেকে  বাঁচতে পারি। ডায়েট হিসেবে এই খাবারটি আপনি খেতে পারেন।

পেশী মজবুত করতে কাঁচা কলার উপকারিতা

পেশী মজবুত করতে কাঁচা কলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কাঁচা কলা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ একটি ফল বা সবজি। তা আমাদের পেশীকে মজবুত করে।

পেশীতে কোন সমস্যা থাকলে আপনি সিদ্ধ কাঁচা কলা খেতে পারেন। কারণ তাতে পটাশিয়ামের পরিমাণ খুব বেশি। পেশীর সমস্যা দূর করতে আপনি কাঁচা কলা সবজি হিসেবে খেতে পারেন।

পাশাপাশি মাংসপেশিতে কোন সমস্যা হলে কাঁচা কলার কোন জুড়ি নেই।  প্রতিদিন কাঁচা কলা খেলে আপনার মাংসপেশিতে যেকোনো ধরনের সমস্যা লাঘব হবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাঁচা কলা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কাঁচা কলা খুবই কার্যকরী। যারা ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন,  তাদের প্রত্যেকের কাঁচা কলা খাওয়া উচিত। কারণ এটি খেতে মিষ্টি নয়।

এবং রক্তে সুগারের পরিমাণ কমায়। সুগার কমে গেলে ডায়াবেটিস স্বাভাবিক থাকে। যদি ডায়াবেটিস কমাতে চান,  তাহলে খাবারের দিকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।

তাই, আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কাঁচা কলা নিতে পারেন। একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি কাঁচা কলা খায়,  তাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

হজমে সহায়তা করে

কাঁচা কলা হজম ক্রিয়ার উন্নতি করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন কাঁচা কলা খেলে হজমক্রিয়া ভালো থাকে। এই ফল বা সবজিটি আমাদের শরীরের খারাপ ব্যাকটেরিয়াগুলোকে নষ্ট করে দেয়।

আমাদের পেটে কোনো রোগ থাকলে, তা ভালো করে। এবং পাচনতন্ত্র সুস্থ রাখে। ফলে আমাদের খাবার ধীরে ধীরে হজম হয়। যা আমাদের দেহে গঠনই খুবই উপকারী।

ডায়রিয়া লাগবে কাঁচা কলা

ডায়রিয়া লাগবে কাঁচা কলা খুবই সহায়ক। যারা এই সমস্যায় ভুগছেন, তাদের প্রতিদিন কাঁচা কলা খাওয়া উচিত। কাঁচা কলার কিছু উপাদান আছে যা ডায়রিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। এই ডায়রিয়ার কারণে আমাদের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। 

কাঁচা কলা খেলে ডায়রিয়া ভাল হয়ে যায়।  খাওয়ার আগে ভালো করে পরিষ্কার করে নিবেন।  প্রতিদিন পরিমাণমতো খাবেন, তাহলে এর চমৎকার ফলাফল পাবেন।

পুষ্টিতে ভরপুর কাঁচা কলা

কাঁচা কলায় রয়েছে বিভিন্ন রকমের পুষ্টি। যা আমাদের শরীরের জন্য উপকারী। এই পোস্টটি গুলো হল স্টার্চ, শ্বেতসার এবং ফ্যাটি এসিড। এতে রয়েছে ফাইবার নামক উপকারী পুষ্টি।

এবং ফলটিতে রয়েছে পটাশিয়াম এবং বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদান। যা আমাদেরকে সুস্থ রাখে। তাই, কেউ যদি পুষ্টি সমস্যায় থাকেন, তাহলে ওই ব্যক্তির প্রতিদিন কাঁচা কলা খাওয়া উচিত।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাঁচা কলার উপকারিতা

কাচা কলার মধ্যে পটাশিয়াম নামক একটি বিশেষ উপাদান আছে।  যা আমাদের শরীরের রক্তের চাপ কমিয়ে রাখে। যারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখতে চান, তারা প্রতিদিন কাঁচা কলা খেতে পারেন।

আপনি কি জানেন? উচ্চ রক্তচাপের কারণে হূদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন। এবং স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই, এই ফলটি খেলে মারাত্মক রোগ হওয়া থেকে আপনি বাঁচতে পারবেন।

ওজন নিয়ন্ত্রণে কাঁচা কলা

ওজন নিয়ন্ত্রণে কাচা কলার কোন জুড়ি নেই। আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি কাঁচা কলা হল একটি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। তাই, এই ফলটি খেলে আপনার পেটে বেশিক্ষণ থাকে। 

অর্থাৎ আপনার খিদে ধীরে ধীরে কমে যায়।  এভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে আপনি আপনার ওজন কমাতে পারবেন।

বিপাক বৃদ্ধিতে কাঁচা কলা 

কাঁচা কলায় আছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ ওপুষ্টি উপাদান। যা আপনার পেটের চর্বিকে শক্তিশালী করে। এই ফলটির মধ্যে আছে ভিটামিন বি ৬।

যা এনজাইম নষ্ট করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ফলে, আপনার বিপাক বেড়ে যায়।

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে কাঁচা কলার ভূমিকা

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে কাঁচা কলা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এই সবজিটিতে আছে ভিটামিন বি ৬। যা রক্তের গ্লুকোজ স্বাভাবিক রাখে।

এবং টাইপ টু ডায়াবেটিস স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এটা আঁশ জাতীয় সবজি। তাই, রক্তের শর্করা স্বাভাবিক থাকে।

বৃক্কের কার্যক্ষমতা ভালো রাখে

কাঁচা কলা খেলে বৃক্কের কার্যক্ষমতা ভালো থাকে। এবং আমাদের শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য স্বাভাবিক রাখে।

এই সবজিটি প্রতিদিন খেলে বৃক্কের যে কোন সমস্যা থাকলে দূর হয়। ফলে, কিডনিতে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।

চিনি নিয়ন্ত্রণে কাঁচা কলা

আমাদের শরীরের প্রত্যেকের রক্তে চিনি আছে। চিনির মাত্রা বেশি হলে আমাদের শরীরের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই ফলটি আঁশযুক্ত হওয়ায় রক্তে চিনির পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।

কোলন ক্যান্সার কমাতে কাঁচা কলা

আমাদের কোলনে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার কারণে ক্যান্সার হয়। কাঁচা কলা খেলে কোলনে থাকা ক্যান্সারের সেল গুলো নষ্ট হয়। এবং আমাদের কোলন ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা কমে যায়।

কাঁচা কলার কিছু অসুবিধা জেনে নিন 

কাঁচা কলার অনেক উপকারিতা আছে। তবুও এর কিছু অসুবিধা আমাদের জানা দরকার। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত যে কোন জিনিস খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণমতো গ্রহণ করা। 

ঠিক তেমনিভাবে কাঁচা কলা খাওয়ার ক্ষেত্রেও আপনি পরিমাণমতো খাবেন। যদি বেশি খান, তাহলে পেট ব্যথার সমস্যার সম্মুখীন হবেন। বুকে জ্বালা পোড়া শুরু হবে। 

পাশাপাশি আপনার পেট খারাপ হতে পারে। এবং পেটে কৃমির জন্ম নিবে। তাই, আমাদের সবার উচিত পরিমাণমতো কাঁচা কলা গ্রহণ করা। আশাকরি, কাঁচা কলার উপকারিতা ও অসুবিধা  সম্পর্কে আপনারা জেনেছেন।

পরিশেষে, আমি একটি কথা বলতে চাই।  আর তা হল আপনাদের খাদ্য তালিকায় কাঁচা কলা বেছে নিন। পরিমাণমতো গ্রহণ করুন এবং সুস্থ থাকুন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!