গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কমে গেলে করণীয়

গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কমে গেলে করণীয় কি তা জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন।

সাধারণত পুরুষের তুলনায় নারীদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ খুব কম থাকে।

বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় এই সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

আজকের এই আর্টিকেলে আমি আলোচনা করব প্রেগনেন্সিতে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম থাকলে কি করবেন?

হিমোগ্লোবিন হলো রক্ত মধ্যস্থ একটি জটিল প্রোটিন যা শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইড সরবরাহে সাহায্য করে থাকে।

অনেক সময় বিশেষজ্ঞরা গর্ভের শিশুর সুস্থ ভাবে বেড়ে উঠতে গর্ভবতী নারীকে রক্ত দেয়ার পরামর্শ দেন।

কারণ দেহের কোষ গুলোকে সক্রিয় ও কর্মক্ষম রাখতে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকাটা অত্যন্ত জরুরী।

আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত?

গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কত হওয়া উচিত?

গর্ভাবস্থায় যেকোনো ট্রাইমিস্টারে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা 10 অথবা তার উপরে থাকলে গর্ভবতী মায়ের জন্য ভালো।

প্রথমদিকে 11.6 থেকে 13.9 গ্রাম পার ডেসিলিটার অথবা 116 থেকে 139 গ্রাম পার লিটার।

দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে 9.7 থেকে 14.8 গ্রাম পার ডেসিলিটার। অথবা 97 থেকে 148 গ্রাম পার লিটার।

গর্ভাবস্থায় তৃতীয় ত্রৈমাসিকে 9.5 থেকে 15 গ্রাম পার ডেসিলিটার বা 95 থেকে 150 গ্রাম পার লিটার।

রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ 7% গ্রামের কম হলে মা এবং গর্ভস্থ শিশুর বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

যেমন মায়ের ক্ষেত্রে প্রিক্ল্যাম্পসিয়া,কার্ডিয়াক ফেইলিউর, সংক্রমণ প্রসব পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ইত্যাদি।

আর সন্তানের ক্ষেত্রে গর্ভস্থ শিশুর পর্যাপ্ত বৃদ্ধি না হওয়া,নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রসব হয়ে যাওয়া, কম ওজনে শিশু জন্ম নেয়া ইত্যাদি।

আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় শরীর দুর্বল হলে করণীয়

রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা হ্রাস পাওয়ার লক্ষণ?

ক্লান্তি বোধ হওয়া, ত্বক এবং ঠোট ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।

অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট, হাত এবং পায়ের পাতা প্রায়শই ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা ও ঝিমঝিম ভাব,খাবারে অরুচি।

গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কমে গেলে করণীয়

গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়ার এক তীব্র সম্ভাবনা থাকে।

তাই গর্ভাবস্থায় শুরু থেকেই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অবশ্য আয়রন ট্যাবলেট খেতে হবে।

আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যেমন কলিজা, মাংস, ডিম, মটরশুঁটি সবুজ শাকসবজি,পেয়ারা ইত্যাদি ভালো করে খেতে হবে।

আয়রন, ক্যালসিয়াম, কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবার সমৃদ্ধ বেদানা হিমোগ্লোবিন ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।

এছাড়া মধু আয়রনের একটি ভালো উৎস। আয়রন ছাড়াও মধুতে কপার এবং ম্যাঙ্গানিজ আছে।

গর্ভাবস্থায় নিয়মিত দুধ ও ডিম খেতে হবে। একটি সুস্থ শিশুর জন্মের জন্য প্রথম শর্ত হলো গর্ভবতী মায়ের পূর্ণ সুস্থতা।

তাই গর্ভবতী মায়ের সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে।

আশা করি গর্ভাবস্থায় হিমোগ্লোবিন কমে গেলে করণীয় কি তা জানতে পেরেছেন।

নতুন তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইট Foodtips24 এ যুক্ত থাকুন। এবং আমাদের ফেসবুক পেইজের সাথে যুক্ত থাকুন। পাশাপাশি নিচের ভিডিওটি দেখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.