শবে কদরের নামাজ নফল না সুন্নত

শবে কদরের নামাজ নফল না সুন্নত তা জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন। শবে কদরের নামাজ রমজান মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নামাজ।

এই তাৎপর্যপূর্ণ নামাস্টি রমজান মাসের শেষ দশদিনের বেজোড় রাতে পড়া হয়। যা লাইলাতুল কদর রাত্র হিসেবে পরিচিত।

এই রজনীতে আল্লাহর প্রিয় বান্দাগন না ঘুমিয়ে সারারাত তার রবের সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করবে।

লাইলাতুল কদর রাত্রের তাৎপর্য অনেক। এটি এমন একটি রাত্র যে সময় আল্লাহর প্রিয় বান্দাগন ইবাদত করলে এক হাজার বছরের সাওয়াব অর্জন করতে পারবে।

কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না শবে কদরের নামাজ নফল নাকি সুন্নত

আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের সামনে সকল বিষয় তুলে ধরব।

পাশাপাশি শবে কদর সম্পর্কে যত জিজ্ঞাসা আছে সকল কিছুর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

আরো পড়ুনঃ ইসলামের দৃষ্টিতে পর্দার হুকুম ও নারীর মর্যাদা

শবে কদরের নামাজ নফল না সুন্নত

আমাদের মধ্যে অনেক দ্বীনি ভাই-বোন আছে যারা গুগলে সার্চ করে থাকে সব শবে কদরের নামাজ নফল না সুন্নত

তবে একটি জিনিস লক্ষণীয় যে আল্লাহ তা’আলা শবে কদরের নামাজকে আমাদের উপর বাধ্যতামূলক করেননি।

পাশাপাশি কোরআন ও হাদিসের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় এই নামাজের নির্দিষ্ট রাকাত বলা হয়নি।

তাই শবে কদরের নামাজ নফল হিসেবে গণ্য হবে। আমাদের মহান প্রভু এই নামাজের জন্য আমাদেরকে নফল সওয়াব প্রদান করবেন।

তাই আমরা শবে কদরের নামাজ সুন্নত না নফল এই ব্যাপারটি নিয়ে বিতর্কে জড়াবো না।

কুরআন ও হাদিস মোতাবেক আমল করার চেষ্টা করব। আমরা সকলেই জানি যে মহান প্রভু তাঁর বান্দাদেরকে ক্ষমা করতে ভালোবাসে।

আমরা এই নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবো। পাশাপাশি ইহকালীন শান্তি এবং পরকালীন মুক্তি জন্য আবেদন করতে পারব।

এক নাম্বার দলিলঃ হাদিসে বর্ণিত আছে যে, হযরত মোহাম্মদ সাঃ এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কদর রজনীতে চার রাকাত সালাত আদায় করবে এবং ওই সালাতের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর একুশ বার সূরা ইখলাস পাঠ করবে।

সে ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ তা’লা নতুন জন্মগ্রহণ করা একটি বাচ্চার মতো নিষ্পাপ করে দিবেন এবং জান্নাতে তার জন্য আকর্ষণীয় প্রাসাদ তৈরি করে দিবেন।

দুই নাম্বার দলিলঃ অপর এক হাদীসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কদর রাত্রিতে চার রাকাত নামাজ আদায় করবে।

এবং প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর সূরা ইখলাস তিনবার পাঠ করবে। এবং নামাজ সমাপ্ত হওয়ার পর সিজদায় গিয়ে শবে কদর নামাজের দোয়া পড়ে মহান প্রভুর নিকট যা প্রার্থনা করবে তাই কবুল হবে।

এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হবে। কোরআন ও হাদিস পর্যালোচনা করলে আমরা বলতে পারি যে শবে কদরের নামাজ সুন্নত নয় বরং নফল

আরো পড়ুনঃ তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল

শবে কদরের ইতিহাস জেনে নিন

শবে কদর রাত্রে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর উপর কোরআন নাজিল হয়।

সময়টা ছিল ৬১০ খ্রিস্টাব্দে শবে কদর রাতে যখন মহানবী হযরত মুসা ইসলাম হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন ছিলেন।

তখন হযরত মোহাম্মদ সাঃ এর উপর সূরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত নাযিল করা হয়।

শবে কদর আরবিতে লাইলাতুল কদর নামে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রথমে আমরা লাইলাতুল কদর এর শাব্দিক অর্থ জেনে নেই।

লাইলাতুল শব্দটির অর্থ হলো রাত্রি এবং কদর অর্থ সম্মানিত অথবা মহিমান্বিত।

পাশাপাশি এর ভাবগত অর্থ হলো এই রাত্রিতে আল্লাহ তার বান্দাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে থাকেন।

মহান আল্লাহতা’লা এই রাত্রকে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য সম্মানিত করেছেন।

কেননা আল্লাহর প্রিয় বান্দা যদি ওই রাতে তার রবের ইবাদতে মশগুল থাকে, তাহলে সে এক হাজার বছরের ইবাদতের পরিমাণ সওয়াব পাবে।

আরো পড়ুনঃ জানাজার নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম

শবে কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

শবে কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরসীম। কেননা এই রাত হাজার রাতের চেয়ে সর্বোত্তম।

এই রাতে এবাদত এর মাধ্যমে আপনার পাপগুলো মোচন হবে।

পাশাপাশি আল্লাহ তা’আলার দিদার লাভ করতে পারবেন।

রজনীতে আল্লাহর প্রিয় বান্দাগন নফল সালাতের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ করে এবং জিকির-আজকার করে।

এই রাত্রিটি তাৎপর্য হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হলো, পবিত্র কুরআন শরীফ লাইলাতুল কদরে জিব্রাইল আলাই সাল্লাম এর মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) এর উপর অবতীর্ণ করা হয়। শবে কদর সম্পর্কে আল কুরআনে স্পষ্ট আয়াত রয়েছে।

মহান আল্লাহতালা ইরশাদ করেন, আমি পবিত্র কোরআন শরীফ কে কদর রজনীতে নাযিল করেছি।

তুমি কি জানো? কদর রজনী কি? এই রজনী হাজার মাস থেকেও উত্তম-মঙ্গলময় (সূরা আল কদর ১-৩)।

আশা করি উপরের আয়াত থেকে শবে কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পেরেছেন।

তাই এই রজনীতে বাসায় বসে না থেকে মসজিদে গিয়ে সর্বদা আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকবো।

আরো পড়ুনঃ বিতর নামাজ পড়ার নিয়ম জেনে নিন

শবে কদরের রাত রমজানের কোন দিন?

শবে কদরের রাত রমজানের কোন দিন এ ব্যাপারে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ নির্দিষ্ট করে যাননি।

হযরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত আছে যে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেছেন কদর রজনীকে রমজানের শেষ দশ দিনের বিজোড় রাত্রিতে অন্বেষণ কর (বুখারী, মুসলিম এবং তিরমিযী)।

ইসলামিক বিশ্লেষকগণ রমজানের সাতাশ তারিখে কদর রজনী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

যদিও মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাম এই ব্যাপারে কোন নির্দিষ্ট রাত বলেন নি।

এই রজনীর সাথে পুরো মুসলিম উম্মার ভাগ্য জড়িয়ে আছে।

কারণ এ রাত্রিতে আল্লাহর কালাম কোরআনুল কারীম নাযিল হয়েছে।

তাই পরিশেষে বলতে পারি যে শবে কদরের সালাত রমজানের শেষ দশ দিনের বিজোড় রজনীতে খুজতে হবে।

আরো পড়ুনঃ উওম চরিত্রের গুনাবলি

শবে কদরের নামাজ কত রাকাত?

অনেক দ্বীনি ভাই বোন আছে যারা গুগোল এ সার্চ করে থাকেন, শবে কদরের নামাজ কত রাকাত?

আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি যে, এই নামাজ হলো নফল। অর্থাৎ এই সালাতের সাওয়াব নফল হিসেবে গণ্য করা হবে।

তাই এর কোন নির্দিষ্ট রাকাত নেই। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী যত বেশি পড়তে পারেন।

অর্থাৎ দুই রাকাত করে সর্বোচ্চ যত রাকাত নামাজ পড়া যায়।

তবে একটি জিনিস মাথায় রাখবেন মনোযোগের সহিত নামাজটি আদায় করবেন।

পরিশেষে বলা যায় যে, মহান আল্লাহতালা তার বান্দাদের উপর শবে কদর নামাজের কোন নির্দিষ্ট রাকাত বাধ্যতামূলক করেননি।

আরো পড়ুনঃ সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২২

শবে কদরের নফল নামাজের নিয়ত

শবে কদর নামাজের নিয়ত বা শবে কদরের নফল নামাজের নিয়ত জানতে এই প্যারাটি পড়ুন।

প্রত্যেক নামাজ আদায়ের পূর্বে আমাদেরকে অবশ্যই নিয়ত করতে হয়।

ঠিক তেমনি ভাবে শবে কদরের নামাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

তবে আমাদের প্রথমে বুঝতে হবে নিয়ত কি? এর মানে হল কোন কিছুর ইচ্ছা প্রকাশ করা।

যাই হোক এ নামাযের পূর্বে আমাদের অবশ্যই নিয়ত করতে হবে। এবং উল্লেখ করতে হবে আমরা নফল নামাজ আদায় করবো।

কিন্তু আমাদের অনেক দ্বীনি ভাই-বোন আছে যারা আরবীতে নিয়ত বাঁধতে অনেকটা কঠিন মনে করেন।

তাই আপনারা বাংলা নিয়ত করতে পারবেন। এর জন্য কোন বাধ্যবাধকতা নেই যে আপনাকে আরবীতেই শবে কদরের নিয়ত বাধতে হবে।

আরো পড়ুনঃ নগদ একাউন্টের ব্যালেন্স দেখার নিয়ম ২০২২

শবে কদরের আরবি নিয়ত

এই আরবি নিয়তটি হলোঃ নাওয়াইতু আন ওছাল্লিয়া লিল্লাহি তায়া’লা রাকআ’তাই ছালাতি লাইলাতিল কদর-নাফলি মুতাওয়াজ্জিহানিল্লাহ জিহাতিল্ কা’বাতিশ্ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

বাংলা নিয়তঃ আমি কিবলামুখী হয়ে মহান প্রভুর উদ্দেশ্যে শবে কদরের দুই রাকাত নফল সালাতের নিয়ত পোষণ করলাম “আল্লাহু আকবার”।

শবে কদরের সালাত আদায়ের নিয়ম

শবে কদরের সালাত আদায়ের নিয়ম বা শবে কদর নামাজের নিয়ম
শবে কদরের সালাত আদায়ের নিয়ম

এবার আসুন জেনে নেই শবে কদরের সালাত আদায়ের নিয়ম বা শবে কদর নামাজের নিয়ম

আমাদের মধ্যে অনেক দ্বীনি ভাই-বোন আছে যারা শবে কদরের নামাজের নিয়ম সম্পর্কে অবহিত নন।

আজকের এই প্যারাতে শবে কদর সালাত পড়ার নিয়ম নিয়ে আলোচনা করবো।

শবে কদরের সালাত আদায় করতে হলে প্রথমে আপনাকে পবিত্র হতে হবে অর্থাৎ ওযু করতে হবে।

তারপর আরবি অথবা বাংলা নিয়ত করতে হবে। পাশাপাশি মনে মনেও নিয়ত করতে পারেন।

তবে একটি জিনিস মাথায় রাখবেন যখন নিয়ত করবেন, তখন অবশ্যই শবে কদরের দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করছেন তা মুখে বলবেন।

অন্যান্য নফল নামাজের ন্যায় শবে কদরের নামাজ শুরু করবেন। প্রথমে ছানা পড়বেন।

দ্বিতীয়তঃ সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে পড়বেন। সূরা পাঠ সম্পন্ন হলে রুকু এবং সেজদা করে ২য় রাকাত ঠিক একই নিয়মে পড়বেন।

এখন বৈঠকে প্রথমে তাশাহুদ পড়বেন। তারপর দুরুদ শরীফ এবং দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরাবেন।

সর্বশেষ মোনাজাত ধরে আল্লাহর কাছে আপনার ইচ্ছাটুকু ব্যাক্ত করবেন।

আরো পড়ুনঃ তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন, নিয়ত, সুরা, রাকাত, মোনাজাত

শবে কদরের নামাজ বিতরের আগে না পরে?

অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে শবে কদরের নামাজ বিতরের আগে না পরে পড়বো বা শবে কদরের নামাজ কখন পড়তে হয়?

আসলে শবে কদর হচ্ছে একটি নফল নামাজ। আমরা জানি নফল ইবাদত সারারাত ব্যাপী করা যায়।

তাই আমরা যখন তারাবি নামাজ পড়বো, তারপরই বিতর সালাত পড়ে নিব। তবে এমনটা নয় যে বিতরের আগে শবে কদরের সালাত করতে হবে।

যেহেতু নফল ইবাদত সেহুতু বিতর নামাজ পরে ও আমরা পড়তে পারবো।

আশা করি উত্তরটি পেয়ে গেছেন। তবে আমরা এ ব্যাপারে কখনো তর্কে যাব না।

শবে কদর নামাজের দোয়া

কোরআনুল কারিমে শবে কদর নামাজের বিভিন্ন দোয়া রয়েছে। এগুলো হলো-

বাংলা অনুবাদঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা বিশ্বাস জ্ঞাপন করছি।

তাই তুমি আমাদেরকে মাফ করো এবং আমাদের প্রতি দয়া করো।

তুমি দয়ালুদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু (সূরা আল-মুমিন, ১০৯ আয়াত)।

কপিরাইট হওয়ার কারণে আমি কিছু আয়াত আরবিতে লিখে দিতে পারিনি।

দয়া করে কুরআন খুলে আয়াতটি মুখস্ত করে নিবেন।

-رَبِّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ فَاغْفِرْ لِيْ

বাংলা অনুবাদঃ (হে আমার) রব নিশ্চয়ই আমি নিজের প্রতি অত্যাচার করেছি।

অতএব আপনি আমাকে মাফ করুন (সূরা আল-কাসাস, আয়াত ১৩)

-سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيْرُ

বাংলা অনুবাদঃ আমরা (আপনার কালাম) শ্রাবণ করলাম এবং আনুগত্য করলাম। হে আমার প্রভু!

আমাদেরকে মাফ করুন। আপনার দিকেই আমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে ( সূরা আল-বাকারাহ, ৮৫ আয়াত)।

বাংলা অনুবাদঃ হে আমার প্রভু! যে বোঝা বহন করার সামর্থ্য আমাদের নেই।

সেই বোঝা আমাদের উপর চাপিয়ে দিও না। আমাদের গুনাহ মোচন করুন। এবং আমাদেরকে মাফ করুন।

আমাদের প্রতি রহম করুন। তুমিই আমাদের রব( সূরা আল-বাকারাহ, ৮৬ আয়াত)।

উপসংহারঃ

আশা করি শবে কদরের নামাজ নফল না সুন্নত তা জানতে পেরেছেন।

পাশাপাশি শবে কদর নামাজের নিয়ম, নিয়ত, রাকাত ও দোয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছেন।

নতুন তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইট Foodtips24 এ যুক্ত থাকুন। এবং আমাদের ফেসবুক পেইজের সাথে যুক্ত থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.