তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল

তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি  নফল বা তারাবির নামাজ কি সুন্নত না নফল তা জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন।

এবং তারাবির নামাজ কত রাকাত এবং কীভাবে পড়বেন তাও আলোচনা করব।

আমরা অনেকেই এই নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছি। আজ আমি আপনাদের সন্দেহ দূর করবো ইনশাআল্লাহ।

রমজান মাস হচ্ছে আমাদের পবিত্র মাস। কোরআনে এ মাসকে আল্লাহতালা শ্রেষ্ঠ মাস হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

এই রমজান মাসে ইবাদত-বন্দেগির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। এই মাসকে ফজিলতের দিক থেকে অন্যান্য মাস থেকে উত্তম।

রোজাকে এই মাসে ফরজ করা হয়েছে। তাই আমরা সবাই এিশ দিন রোজা রাখি।

সালাতুত তারাবিহ রমজান মাসের একটি নামাজ।রোজার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান হলো তারাবির নামাজ।

তারাবির নামাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম পড়েছেন।এবং সাহাবাদের ও নির্দেশ দিয়েছেন পড়ার জন্য।

আমরা অনেকেই জানি না তারাবির নামাজ নফল নাকি সুন্নত। এই নামাজ নারী-পুরুষ সবার জন্যই সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

জামাতের সাথে আদায় করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।

এই নামাজে কোরআন শরীফ খতম করার সওয়াব পাওয়া যায়। সূরা কেরাতের মাধ্যমে আপনি আদায় করতে পারবেন।

তাতেও অধিক সওয়াব পাওয়া যায়।কোরআন মাজিদের  পাঁচশত চল্লিশ রুকুতে বলা হয়েছে।

তারাবির নামাজে কুরআন খতম লাইলাতুল কদর রাতের পূর্বে যাতে সমাপ্ত করা হয়।এ ব্যাপারে ইমামদের বিশেষভাবে খেয়াল রাখার তাগিদ দিয়েছেন।

হাদিসের আলোকে তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল

রমজান মাসের রাতে এশার নামাজের পর। এবং দুই রাকাত সুন্নতের পর। এবং বিতর নামাজের আগে।

আমরা দুই রাকাত করে  বিশ রাকাত নামাজ পড়ে থাকি। এই নামাজকে তারাবির নামাজ বলা হয়। তারাবীহ শব্দটি রাহাতুন থেকে আগত।

এর শাব্দিক অর্থ হলো আরাম করা।আমরা তারাবির নামাজ পড়ার সময় দুই রাকাত পর।

অথবা চার রাকাত পর আমরা আরাম করি। অর্থাৎ দোয়া- দুরুদ পড়ি। তাই এর নাম তারাবি।

আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি তারাবির নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

আর যে ব্যক্তি তা অস্বীকার করবে, সে পথভ্রষ্ট।

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমার সুন্নতকে আঁকড়ে ধর এবং খোলাফায়ে রাশেদীন এর সুন্নতকে আঁকড়ে ধর। তারাবির নামাজ কোন সময় পড়তে হবে।

তারাবির নামাজ ফরজ না সুন্নত

গুগলে অনেকেই এই কিওয়ার্ডগুলো লিখে সার্চ করে থাকে তারাবির নামাজ ফরজ না সুন্নত বা তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি ওয়াজিব

আমরা যদি উপরের হাদিসটি দেখি তাহলে নির্দ্বিধায় বলতে পারি তারাবির নামাজ হলো সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

কেননা তারাবির নামাজ কখন ফরজ অথবা ওয়াজিব হয় না। একমাত্র আল্লাহ তাআলা আমাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন।

তারাবির নামাজের ইতিহাস

সবাইকে প্রথমেই মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তারাবির নামাজ মাহে রমজানের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানগন সারাদিন রোজা রেখে ইফতার করে এসার নামাজের পর এই নামাজ পড়ে থাকে।

ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা এর আমল থেকে সালাতুত তারাবিহ জামাতে পড়া আরম্ভ হয়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তালার আমলে এই নামাযটি জামায়াতের সাথে পড়া হতো না। তখন সবাই এশার নামাজের পর অতিরিক্ত নামাজ হিসেবে তারাবি নামায পড়তো।

তারাবির নামাজের সময় জানুন এবং পড়ুন

সময় নিয়ে রাসুল সাঃ নির্দিষ্ট করেননি।তবে তারাবির নামাজ এশার নামাজের পরে এবং ফজরের আগে যে কোন সময় পড়তে হবে।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ রাতের শেষভাগে আদায় করতেন। কারণ রাতের প্রথম দিকে তিনি আরাম করতেন।

তারাবির নামাজ বিশ রাকাত না ষোল রাকাত জেনে নিন

তারাবির নামাজ বিশ রাকাত না চার রাকাত এই ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট হাদিস নেই। 

কেননা রাসুল সাঃ মাঝে  মাঝে আট রাকাত অথবা ষোল অথবা বিশ রাকাত তারাবি আদায় করতেন। কিন্তু নিয়মিত বিশ  রাকাত আদায় করতেন না।

কারণ তিনি যদি নিয়মিত করতেন, তা  মানবজাতির জন্য অত্যাবশ্যকীয় হত।

তাই রাসুল সাঃ এর আমলে বিশ  রাকাত জামাত হয়নি।তাই এই নামায ওয়াজিব নয়। তবে তা সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে আছে।রাসুল সাঃ বিশ রাকাত তারাবি জামাত বিহীন আদায় করতেন।

তারপর বিতর নামায আদায় করতেন। এই হাদিসটি বায়হাকী গ্রন্থের হাদিস। 

তারাবির নামাজ নিয়মিত বিশ রাকাত পড়ার সময়কাল

রাসুল সাঃ এর ইন্তেকালের পর এই নামাজ ওয়াজিব হওয়ার আশঙ্কা নেই। তাই হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু  তা’আলা এর আমলে এই নামাজের প্রতি জোর দেওয়া হয়।

হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা এবং হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা এর সময়ে তারাবি বিশ রাকাত পড়া হতো।

তার আমল থেকেই এই রীতি শুরু হয়। একদা হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু সাহাবীদের একা একা নামাজ পড়তে দেখলেন।

তারপর জামাতে আদায় করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন।তার আমলে বিশ রাকাত পড়ার নিয়ম প্রচলন হয় ইজমা দ্বারা।

তারাবির সুন্নত নামাজের ফযিলত অনেক

রাসুল সাঃ রমজান মাসে তারাবি নামাজ  আদায় করার অনুপ্রেরণা দিতেন।

এর ফজিলত সম্পর্কে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় রমজানের রজনীতে তারাবি নামাজ পড়ে,তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়”।

এই হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম গ্রন্থে বর্ণনা করা হয়েছে। যদি কোন ব্যক্তি রমজান মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখে।

তারাবির নামাজ আদায় করে।এবং কোরআন তেলাওয়াত করে। আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেন।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও আত্মান্বেষণের সঙ্গে নেক পাওয়ার আশায় রোজা রেখে, তারাবির নামাজ আদায় করে এবং কদর রাতে সারারাত ইবাদত করে,আল্লাহ তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেন”। এই হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে।হযরত মুহাম্মদ সাঃ সব সময় তারাবির নামাজ পড়তেন। 

রাসূল সাঃ কত রাত জামাতে আদায় করেছিলেন

তিনি চার রাত জামাতে আদায় করেছিলেন। কেননা সর্বদা পড়লে, উম্মতেরা ভাবতো ফরজ। হাদিসে আছে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টানা দুই দিন বিশ রাকাত নামাজ আদায় করেছিলেন।

কিন্তু তৃতীয় রাতে সবাই আসলেও তিনি সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন।পরদিন সকালে তিনি সবাইকে বললেন, “আমি তোমাদের উপর তারাবির নামাজ ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনুভব করেছিলাম।

পরে তোমাদের জন্য তা কঠিন হতো। আমরা এই হাদিস থেকে অনুধাবন করতে পারি তারাবির নামাজ নফল নয়। এই নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। আপনি সর্বনিম্ন ৮ রাকাত থেকে শুরু করে ২০ রাকাত পর্যন্ত আদায় করতে পারেন।

আমরা জানি বড় বড় মসজিদ গুলোতে তারাবির নামাজে জামায়াতে কুরআন খতম দেওয়া হয়।তাই আপনি যদি জামাতের সাথে আদায় করেন। তাহলে আপনি বেশি সওয়াবের অধিকারী হবেন।

তারাবি নামাজের ফজিলত অনেক বেশি। এই আমাদের প্রত্যেকটা মুহূর্ত কোরআন তেলাওয়াত দিয়ে অতিবাহিত হয়। এই নামাজে আল্লাহর প্রিয় হওয়া যায়।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ বলেছেন ,আল্লাহ তা’আলা রোজা বাধ্যতামূলক করেছেন এবং তারাবির নামাজে দাঁড়ানো তা ভাল কাজ হিসেবে ঘোষনা করেছেন। রমজান মাসের তারাবির নামাজ আমাদের জন্য একটি নেয়ামত।

প্রকৃতপক্ষে রমজান মাস  আমাদের জন্য এক বিশেষ নেয়ামত। তাই আমরা ত্রিশটি রোজা রাখব। কোরআন তেলাওয়াত করব। কমপক্ষে আট  রাকাত হলেও জামাতের সাথে তারাবির নামাজ আদায় করব।

আশা করি, আপনারা তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল বা tarabi namaz sunnat or nafil bangla জানতে পেরেছেন। 

পাশাপাশি আমাদের ফেসবুক পেইজের সাথে যুক্ত থাকুন। ইসলামিক বিষয় তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইট Foodtips24 এর সাথে যুক্ত থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!