তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন, নিয়ত, সুরা, রাকাত, মোনাজাত

তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন বা তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম কানুন জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন। 

তারাবির নামাজ মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ নামাজ। মাহে রমজান মাসে আমরা সবাই এই নামাজ পড়ে থাকি।

একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই এই নামাজ পড়া উচিত। যদিও আমাদের মসজিদগুলোতে সবাই এই নামায টি সম্পূর্ণভাবে পড়ে না।

পাশাপাশি এই নামাজের নিয়ম কানুন সম্পর্কে জানেনা। আজকের এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের সাথে তারাবি নামাজের নিয়ম কানুন নিয়ে আলোচনা করব।

কেননা একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান হিসেবে আমাদের এই বিষয়টি জানা জরুরী।

ফলে আমরা পবিত্র রমজান মাসে তারাবি নামাজ সঠিক নিয়মে পড়তে পারব এবং অন্যকেও বোঝাতে পারবো।

আরো পড়ুনঃ ইসলামের দৃষ্টিতে পর্দার হুকুম ও নারীর মর্যাদা

তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন জানুন 

যখন মাহে রমজান আমাদের নিকট আগমন করে, তখন আমরা সবাই তারাবি নামাজ পড়ে থাকি।

কিন্তু একটি বিষয় লক্ষণীয় যে তারাবির নামাজ কিভাবে পড়তে হয় তা আমরা অনেকেই জানি না।

যখনই আমরা তারাবির নামাজ পড়তে যাই, তখনই আমাদের মনে একটি প্রশ্ন জাগে। আর সেটি হল তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম

আমি ইতিপূর্বে বলেছি যে রমজান মাসে প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানগন তারাবি নামাজ পড়ে থাকে।

এর জন্য আপনাকে প্রথমে চার রাকাত নামাজ পড়তে হবে। তারপর দুই রাকাত সুন্নত পরে তারাবির নামাজ আরম্ভ করতে হবে।

যখন আমাদের তারাবির নামাজ পড়া শেষ হবে তখন আমরা তিন রাকাত বিতর নামাজ পড়ে নিব।

যাইহোক আমি আপনাদের সাথে তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন শেয়ার করতে যাচ্ছি। 

এর জন্য আমাদের প্রথমে জানতে হবে তারাবি অর্থ কি। মূলত তারাবি হল একটি আরবি শব্দ।

আরবিতে একে তারাবিহ বলা হয়। এ শব্দটি রাহাতুন মূল ধাতু থেকে নির্গত হয়েছে। 

এখন আপনারা আমাকে বলতে পারেন ভাই রাহাতুন শব্দের অর্থ কি? এর অর্থ হলো আরাম অথবা বিশ্রাম করা। 

এখন আমি আপনাদের সামনে শরীয়তের সংজ্ঞা তুলে ধরবো। শরীয়তের পরিভাষায় তারাবি হলো রমজান মাসে ইশার নামাজ পড়ার পর দুই রাকাত সুন্নত শেষ করে তারাবি আরম্ভ করি।

প্রতি দুই রাকাত করে চার রাকাত সমাপ্ত হওয়ার পর আমরা কিছুক্ষনের জন্য আরাম করে থাকি। মূলত এটাই তারাবি। 

তারাবির নামাজের শুরুতেই আমাদের তারাবির নিয়ত করতে হয়।

মূলত আমাদের বাংলাদেশে তারাবির নামাজ ২০ রাকাত পড়ানো হয়ে থাকে। আবার পাশাপাশি অধিকাংশ লোক তারাবির নামাজ আটবারো এবং বিশ রাকাত পরে।

তবে যত বেশি রাকাত পড়বেন আপনার খাতায় তত সাওয়াব লেখা হবে।

আরো পড়ুনঃ তারাবির নামাজ সুন্নত নাকি নফল

তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম ও দোয়া

তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম ও দোয়া

ইতিপূর্বেই আপনাদের সামনে তারাবির নামাজ সম্পর্কে কিছু ধারণা তুলে ধরেছি।

এখন আমরা কিভাবে পড়তে হয় তা জানব। মাহে রমজান মাসে চার রাকাত ফরজ নামাজ পড়ে দুই রাকাত সুন্নত পড়ে থাকি।

তারপরই তারাবির নামাজ আরম্ভ হয়। অনেক মসজিদে তারাবির নামাজে কোরআন খতম দেওয়া হয়। 

অথবা সুরা তারাবি পড়া হয়। দুই রাকাত করে আমরা চার রাকাত তারাবি নামাজ পড়ার পর বিশ্রাম নিয়ে থাকি।

তবে একটি জিনিস মাথায় রাখবেন দুই রাকাত তারাবি নামাজ পড়ার পর বিশ্রাম নিবেন না।

যখন চার রাকাত নামাজ হবে,তখন বসে আমাদের মোনাজাত করতে হয়। 

আপনি যদি মসজিদে যেতে অক্ষম হন, তাহলে ঘরে বসেও তারাবির নামাজ আদায় করতে পারবেন। 

এভাবে পর্যায়ক্রমে বিশ রাকাত তারাবি সম্পন্ন হলে তারপর তিন রাকাত বিতর নামাজ পড়ে ইশার নামায সমাপ্ত করবেন।

আরো পড়ুনঃ জানাজার নামাজ পড়ার নিয়ম। জানাজার নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম

তারাবির নামাজের সহীহ নিয়ম

এই নামাজের সহীহ নিয়ম হলো-এশারের চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করার পর দুই রাকাত সুন্নত আদায় করবেন।

তারপর তিন রাকাত বিতর নামাযের পূর্বে আট অথবা বিশ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করবেন।

মহিলাদের তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম

অনেক ভাই ও আপুরা গুগল সার্চ করে থাকে মহিলারা কিভাবে তারাবির নামাজ পড়বে।

প্রকৃতপক্ষে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ম একই।

শুধু পার্থক্য হল মহিলারা তারাবির নামাজ ঘরে পড়বে। আর পুরুষরা মসজিদে সম্পন্ন করবে।

তবে মহিলারা যদি মসজিদে নামাজ পড়তে চায়, তাহলে তাদেরকে যাওয়ার অনুমতি দিবেন। 

বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী মহিলাদের তারাবির নামাজ ঘরে পড়ার জন্য উৎসাহিত করবেন।

আরো পড়ুনঃ বিতর নামাজ পড়ার নিয়ম জেনে নিন

তারাবির নামাজের দোয়া বাংলা অর্থ সহ

তারাবির নামাজ দুই রাকাত করে চার রাকাত সম্পন্ন করার পরই আমরা এই দোয়াটি পড়ে থাকি।

নিম্নে এই দোয়াটি আরবিতে দেয়া হল। পাশাপাশি এর বাংলা অর্থও জানতে পারবেন। 

سبحان ذى الملك والملكوت سبحان ذى العزة والعظمة والهيبة والقدرة والكبرياء والجبروتسبحان الملك الحى الذى لاينام ولا يموت ابدا ابدا سبوح قدوس ربنا ورب الملئكة والروح

এর বাংলা উচ্চারণ হলো- সুব্হানাযিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি সুবহানাযিল ইযযাতি ওয়াল আযমাতি ওয়াল হাইবাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারূত, সুব্হানাল মালিকিল হায়্যিল্লাযি লা-ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা, সুব্বুহুন কুদ্দুছুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।

সুবহানাযিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি বাংলা অর্থ 

আল্লাহ পবিত্রময় সাম্রাজ্য ও মহত্ত্বের মালিক। তিনি পবিত্রময় সম্মান মহত্ত্ব ও প্রতিপত্তিশালী সত্তা।

ক্ষমতাবান, গৌরবময় ও প্রতাপশালী। তিনি পবিত্রময় ও রাজাধিরাজ।

যিনি চিরঞ্জীব, কখনো ঘুমায় না এবং চির মৃত্যুহীন সত্তা।

আল্লাহ পবিত্র ও বরকতময়, আমাদের প্রতিপালক, ফেরেশতাকুল এবং জিবরাইলের প্রতিপালক।

আরো পড়ুনঃ উওম চরিত্রের গুনাবলি

তারাবির নামাজের আরবি নিয়ত

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা তারাবি নামাজের আরবি নিয়ত জানেনা। এই নিয়তটি হলো-

বাংলা উচ্চারণঃ নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা। রকাআতাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তা’আলা। মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

তারাবির নামাজের বাংলা নিয়ত

আমাদের দ্বীনি ভাই বোনদের মধ্যে অনেকেই আছে যাদের আরবি পড়তে একটু সমস্যা হয়।

তাই তাদের কথা চিন্তা করে আজকের এই প্যারাতে তারাবি নামাজের বাংলা নিয়ত দেওয়া হলো। 

আর এই নিয়তটি হলো- আমি কিবলামুখী হয়ে দুই রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা তারাবির নামাজের নিয়ত করছি, আল্লাহু আকবার

তারাবির নামাজ কত রাকাত

আমাদের বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক রয়েছে যে তারাবির নামাজ কত রাকাত।

অনেকেই গুগলে সার্চ করে থাকে তারাবির নামাজ ৮ না ২০ রাকাত? এর উওর হলো- তারাবি একটি নফল ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়। 

তাই মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর নামাজটির কোন নির্দিষ্ট রাকাত বলে যাননি।

আপনি যদি জামায়াতের সাথে তারাবির নামাজ পড়েন, তাহলে আপনার বেশি সওয়াব হবে।  কেননা তা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। 

তারাবি নামাজের সূরা

এখনো আমাদের মুসলিম ভাইদের মধ্য থেকে একাংশ লোক গুগলে সার্চ করে থাকে তারাবির নামাজ কোন সূরা দিয়ে পড়ব

এর উত্তর হলো আপনি প্রথমে সুরা ফাতেহা পাঠ করবেন।

তারপর কুরআনুল কারীম থেকে যেকোনো ছোট সূরা দিয়ে তারাবির নামাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

তবে এমন না যে আপনাকে বড় সূরা পাঠ করতে হবে। তবে যদি আপনাদের মুখস্ত থাকে, তাহলে ওই সূরা পাঠ করে  তারাবির নামাজ পড়তে পারবেন।

আশা করি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। তবে একটি জিনিস মাথায় রাখবেন আপনার কুরআন তেলাওয়াত যেন শুদ্ধভাবে পাঠ করা হয়।

আরো পড়ুনঃ সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২২। মাহে রমজানের ক্যালেন্ডার ২০২২

তারাবির নামাজের মোনাজাত 

বাংলা উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা ইন্না নাস আলুকাল্ জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনান্নারি ইয়া খালিকাল জান্নাতা ওয়ান্নারি বিরাহমাতিকা ইয়া আজীজু, ইয়া গাফ্ফারু, ইয়া কারীমু, ইয়া সাত্তারু, ইয়া রাহিমু ,ইয়া জাব্বারু ইয়া খালেকু, ইয়া রাররূ, আল্লাহুমা আজির না মিনান্নারি। ইয়া মুজিরু ইয়া মুজিরু, বিরাহমাতিকা ইয়া আর হামার রাহিমীন।

তারাবির নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত

তারাবির নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা মাহে রমজান যে সকল কয়েকটি বিষয়ের কারণে তাৎপর্যপূর্ণ।

তার মধ্যে তারাবির নামাজ অন্যতম। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তালা থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেন।

তা হল মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ তার সাহাবীদের তারাবির নামাজ পড়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন।

কিন্তু তিনি কঠোরভাবে বলেননি যে এ নামাজ পড়তেই হবে। তিনি বলেন যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সহিত সাওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে তারাবির নামাজ পড়বে,

তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করা হবে। তাই এই হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি তারাবির নামাজের ফজিলত অনেক বেশি।

আশা করি তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন সহ তারাবির নামাজ সম্পর্কিত যাবতীয় সকল তথ্য জানতে পেরেছেন।

নতুন তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইট Foodtips24 এ যুক্ত থাকুন। এবং আমাদের ফেসবুক পেইজের সাথে যুক্ত থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.