পেটের চর্বি কমানোর ১৯টি উপায়।

আজ আমি পেটের চর্বি কমানোর উপায় বলবো। আমাদের মধ্যে অনেকেরই পেটের চর্বি বেশি অথবা আমাদের পেটের ভুঁড়ি বেড়ে গেছে যা আমাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

এবং পেটে চর্বি থাকার কারণে আমরা অনেকেই মারাত্মক রোগের সম্ভাবনা থাকে।  এমনকি অনেকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়।

পেটে চর্বি জমা বর্তমান বিশ্বে একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের এই  ভুঁড়ির সমস্যাটা নিয়ে আমরা অনেকেই চিন্তিত থাকে।

পেটে অতিরিক্ত পরিমাণ চর্বি থাকলে আমাদের ভালো দেখায় না। আপনাদের পেটে বেশি চর্বি জমে থাকলে আপনি যে  সমস্যায় পড়বেন তা হলঃ হার্টের সমস্যা এবং টাইপ টু ডায়াবেটিস।

পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ও হতে পারে। হরমোন পেটের চর্বি  জমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

ইনসুলিন হলো আমাদের দেহের ফ্যাট স্টোরেজ হরমোন যা চর্বি বাড়তে সাহায্য করবে। আপনি যদি পেটের চর্বি কমাতে চান তাহলে ইনসুলিন হরমোনের উৎপাদন কমাতে হবে।

ইনসুলিন কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হল আপনার ডায়েট থেকে কার্বোহাইড্রেট উপাদান সমৃদ্ধ খাবার গুলো গ্রহণ না করা।

আরো পড়ুনঃ কিডনির পাথর দূর করার উপায়

বরং আপনি ফ্যাট এবং প্রোটিন জাতীয় খাবার গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি আপনি অযথা চিন্তা করতে পারবেন না এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে।

শাকসবজি জাতীয় খাবার বেশি বেশি খেতে হবে। পেটের চর্বি কমাতে হলে আপনার দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।

পেটের চর্বি কমানোর চমৎকার কিছু উপায় নিচে দেওয়া হল।

Contents hide

প্রোটিন জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন 

পেটের চর্বি কমানোর একটি অন্যতম উপায় হলো প্রোটিন জাতীয় খাবার গ্রহণ করা। আপনার খাদ্য তালিকায় প্রোটিন জাতীয় খাবার গুলো যোগ করতে পারেন।

খাওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি করুন এবং কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার পরিত্যাগ করুন। এখন আপনাদের মনে একটি প্রশ্ন আসতে পারে ভাই প্রোটিন জাতীয় খাবার কোনগুলো?।

আমি এর সামান্য কিছু বলছি। প্রধানত যে খাবারগুলো মাছ, মাংস, দুধ এবং ডিম। এগুলো আপনার খাদ্যাভাসে রাখতে পারেন।

তবে আমাদের একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে আমরা পালিও ডায়েট করবো না। কেননা তাতে আমাদের উল্টো ক্ষতি হতে পারে।

এখন আমরা জানবো প্রোটিন এর কাজ কি। আমাদের দেহের পেশী মজবুত করা এবং এর ঘনত্ব বৃদ্ধিতে সাহায্য করা।

আমাদের পেশী  যত বৃদ্ধি পাবে, তত পেটের চর্বি কমবে। সাদা পাউরুটি এবং পাস্তা খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

কেননা এতে কার্বোহাইড্রেট উপাদানটি বিদ্যমান। বরং আপনারা শস্য জাতীয় ফল গুলো খেতে পারেন।

মৌসুমে যে ফলগুলো উৎপাদন হয় সেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে যা আমাদের পেটের চর্বি কমাতে অত্যন্ত সহায়ক।

পাশাপাশি ফুলকপি ও বাঁধাকপি খেতে পারেন পেটের চর্বি কমানোর জন্য।

খাদ্যতালিকায় নারকেল তেল যুক্ত করেন

আপনি প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় কোকোনাট অথবা নারিকেল তেল খাবেন। ফলে আপনার কোমরের আকৃতি এবং চর্বি কমে যাবে ইনশাল্লাহ। 

তবে কোকোনাট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আপনাদেরকে ভার্জিন কোকোনাট আছে সেটা বেছে নিতে হবে। 

এবং আপনাকে পরিমাণমতো কোকোনাট অয়েল খেতে হবে। আর তা হল দুই টেবিল চামচ অথবা ত্রিশ এম এল।

মনে রাখবেন এর বেশি কখনো গ্রহণ করবেন না। যদি আপনারা অতিরিক্ত পরিমাণ খান তাহলে অবশ্যই আপনাদের ক্ষতি হবে।

মানসিক প্রেসার কমাতে প্রচেষ্টা করুন

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কমবেশি সবারই মানসিক প্রেসার আছে। কিন্তু তাই বলে আমরা হতাশ হবো না যে মানসিক প্রেসার কখনো কমবে না।

আমরা যতটুকু সম্ভব আমাদের মানসিক চাপ কমাতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। কেননা যদি আপনার মানসিক প্রেসার দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে আপনার পেটের চর্বি বাড়তে থাকবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে বাড়ে? এটি এমন একটি হরমোন উৎপাদন করে যার নাম হচ্ছে  কর্টিসোল। আর আমরা অনেকেই জানিনা  এই উপাদান এর কাজ কি?

আর তা হলো ইনসুলিনের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আর আপনারা ভাল করেই জানেন ইনসুলিন বেড়ে গেলেই ওজন বেড়ে যায়। 

ফলে আপনার পেটে থাকা চর্বির পরিমাণ অসম্ভব ভাবে বেড়ে যাবে। আশা করি বিষয়টা আপনারা বুঝতে পেরেছেন।

এখন আপনার বলতে পারেন ভাই, আমরা কি কি উপায়ে মানসিক চাপ কমাতে পারবো?

এর জন্য আমি আপনাদেরকে পরামর্শ দিব আপনারা যথাসম্ভব মোটিভেশন ভিডিও অথবা কোন অনুচ্ছেদ পড়ুন। তারপর গভীরভাবে আপনার শ্বাস নিন।

পাশাপাশি দিঘিতে অথবা পুকুরে গোসল করুন যেখানে আপনি প্রশান্তি পাবেন এবং সবুজ অরণ্যে ঘুরে বেড়ান।

অর্থাৎ এটা হল যে জায়গায় সবচেয়ে বেশি গাছপালা সেখানে আপনি সবসময় সময় ব্যয় করার চেষ্টা করবেন যখন আপনি মানসিক প্রেসারে ভুগবেন ।  

তবে আমাদের একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে আমরা সময় নষ্ট করব না।

আশা করি আপনারা মানসিক প্রেসার কমাতে পারবেন ফলে আপনাদের পেটের চর্বি কমে যাবে ইনশাল্লাহ।

প্রতিদিন গ্রিন টি পান  করবেন 

প্রতিদিন গ্রিন টি পান করার চেষ্টা করবেন। কেননা গ্রিন টিতে এমন একটি উপাদান আছে যেটা  আপনার কোমরের আকার ছোট করবে।

সেই উপাদান টির নাম হল ক্যাটেচিন। পেটের চর্বি  কমানোর ক্ষেত্রে  ক্যাটেচিনের বিকল্প নেই। আর হলো  গ্রিন টি  একটি  পারফেক্ট  ডিটক্স পানীয়।

আমাদের মধ্যে অনেকেরই কফি পানের অভ্যাস আছে। বিশেষ করে আমি প্রতিদিন কফি খাই। 

তবে যাদের এই অভ্যাসটি আছে আপনারা এর পরিবর্তে গ্রিন টি আপনাদের খাদ্য তালিকা আনতে পারেন।

তবে বিশ্বাস রাখেন আপনার ফলাফল পাবেন। একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে আপনি যদি আপনার ওজন কমাতে চান, তাহলে প্রতিদিন ৪থেকে ৫ কাপ গ্রিন টি পান করুন।

এখন আমি বলবো কিভাবে গ্রিন টি থেকে সর্বোচ্চ ভালো ফলাফল পাবেন যদি সম্ভব হয় আপনি চিনি না দিয়েই গ্রিন টি তৈরি করুন এবং তা পান করুন।

অথবা এর পরিবর্তে আপনি আরেকটি উপাদান ব্যবহার করতে পারেন যেটি হল স্টেভিয়ার যা দেখতে ন্যাচারাল সুইটেনারের মত।

এই উপাদানটি আপনার শরীরের চর্বি কমাবে। কেননা এই  উপাদানে শর্করার মাত্রা খুবই কম। 

পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে

আমরা অনেকেই শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে পেটের চর্বি কমানোর চেষ্টা করি যার নাম হল শরীরচর্চা।

আপনি যদি শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমে পেটের চর্বি কমাতে না চান, তাহলে অন্যতম একটি কার্যকরী উপায় হলো প্রতিদিন রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাবেন।

আপনারা হয়তো জানেন না স্লিপ এপনিয়ার এবং তলপেট একে অপরের সাথে গভীরভাবে যুক্ত হবেন।

তবে আমাদের একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে পরিমাণমতো ঘুমাতে হবে। এই বলে আপনি ১০ থেকে ১২ ঘন্টা অথবা এর বেশি ঘুমালে হবে না।

আপনি প্রতি রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করবেন তাহলেই এর ফলাফল পাবেন।

পেটের চর্বি কমলে আপনার স্লিপ এপনিয়ার এর ঝুঁকিটাও অনেকটা কমে যায় যা গবেষণায় দেখা গেছে। 

স্লিপ এপনিয়ার রোগীদের ওজন উপশমে সহায়ক ভূমিকা পালন  করে। তাই ওজন কমাতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমান।

খাবারে হলুদ এর পরিমাণ বৃদ্ধি করুন

আপনার খাবারে হলুদ এর পরিমাণ বৃদ্ধি করুন কেননা হলুদে এমন একটি উপাদান আছে যার নাম হল কারকুমিন।

আর এর অপর নাম হল পলি ফেনল। আর এর প্রধান কাজ হলো আপনার শরীরে চর্বি জমা থেকে রক্ষা করা।

পাশাপাশি পিওরসের মাধ্যমে কারকুমিন চর্বিকে নষ্ট করে দেয়। এবং আমাদের দেহের ইন্সুলিন কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন

আপনি যদি পেটের চর্বি কমাতে চান, তাহলে প্রতিদিন ফাইবার জাতীয় খাবার গুলো গ্রহন করুন।

কেননা ফাইবার এমন একটি উপাদান যা আপনার শরীরের চর্বি হওয়ার হরমোনগুলোকে নষ্ট করে। আপনি লাল চাল দিয়ে ভাত রান্না করে খেতে পারেন। 

পাশাপাশি লাল আটার তৈরি রুটি খাবেন কেননা তাতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে।

আরো অনেক ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রয়েছে যেগুলো আপনারা প্রতিদিন খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

আমি প্রতিদিন সবজি খাওয়ার চেষ্টা করি কেননা এতে ফাইবার সহ বিদ্যমান আঁশ রয়েছে।

আর এই গুলোই আপনার পেটের চর্বি কমাতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করবে ইনশাল্লাহ।

আখরোট, কাঠবাদাম এবং সামুদ্রিক মাছ

সম্ভব হলে প্রতিদিন আখরোট এবং কাঠবাদাম খাওয়ার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি সমুদ্রের খাওয়ার মত যত মাছ আছে তা গ্রহণ করার চেষ্টা করবেন।

কেননা এই খাবার গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ একটি এসিড  আছে। আর এটি হল ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড যা আপনার পেটের  চর্বি বা মেদ কমাতে সাহায্য করবে।

ঝাল যুক্ত খাবার খাবেন

প্রতিদিন ঝাল যুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে আমি আপনাদেরকে বলবো কোন ধরনের ঝাল খাবেন।

ওই ঝাল হতে হবে অবশ্যই দারুচিনি, আদা, কাঁচা মরিচ এগুলোর মধ্যে থেকে। এগুলো আপনি  রান্নায় মসলা হিসেবে ব্যবহার করবেন। 

এই মসলাগুলো আপনার দেহের জন্য ভালো এবং পেটের চর্বি কমাতে সহায়ক।

কাঁচা রসুন দিয়ে পেটের চর্বি কমানোর উপায়

একটি প্রবাদ আছে কাঁচা রসুন খান, পেটের চর্বি কমান।  প্রতিদিন সকালে কাঁচা রসুন খাওয়ার চেষ্টা করবেন। 

এখন বলতে পারেন ভাই আমরা কিভাবে খেতে পারি? রসুন থেকে দুই থেকে তিন কোয়া কি দিন আলাদা করবেন। 

এবং এগুলো আস্তে আস্তে চুষে খাবেন।  এর ফলে আপনার দেহের ওজন অনেকটাই হ্রাস পাবে এবং পেটের চর্বি ঝরবে ইনশাআল্লাহ।

কেননা কাঁচা রসুন আপনার দেহের রক্তের গতি সহজ করে দেয়।  যার ফলে আপনার পেটে চর্বি জমে না।

কুসুম গরম পানি পান করুন

প্রতিদিন সকালে কুসুম গরম পানি পান করার চেষ্টা করবেন।  তবে এই গরম পানির সাথে লেবুর রস মিশ্রিত করবেন। তারপর পান করবেন।

ফলে আপনার দেহের হজমক্রিয়া সুস্থ থাকবে এবং পেটে চর্বি জমার প্রক্রিয়া কমবে। অর্থাৎ আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

খাবার খাওয়ার পর হাঁটাহাঁটি করুন

আমাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকের খাবার গ্রহণ করার পর বসে থাকি অথবা শুয়ে থাকি যা আসলেই উচিত নয়।

যদি আমরা খাওয়ার পর বসে অথবা শুয়ে থাকি, তাহলে ঐ খাবার ভালোভাবে হজম হয় না। ফলে, আমাদের পেটে চর্বি বৃদ্ধি পেতে থাকে যার ভয়ানক ফলাফল  আমাদের ভুগতে হয়।

তাই আমরা খাবার গ্রহণ করার পর না শুয়ে ২০ থেকে ২৫ মিনিট হাটাহাটি করব। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের চেয়ারে বসে সারাদিন কাজ করতে হয়।

আর তাদের পেটে সহজেই চর্বি জমে যায় এবং পেটের আকার গোল হতে থাকে। তার একমাত্র কারণ হল চেয়ারে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা।

তাই আপনাদের সমাধান হলো আপনারা ৫০ থেকে ৬০ মিনিট কাজ করার পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট বাহির থেকে হেঁটে আবার পুনরায় চেয়ারে বসবেন।

অতিরিক্ত খাবার খাওয়া হতে বিরত থাকুন

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা বেশি খেতে পছন্দ করি। আর মনে করে বেশি খেলে তারা সুস্থ থাকবেন আসলে প্রকৃতপক্ষে তা নয়।

তবে আপনি অল্প অল্প করে বেশি খাবার খেতে পারেন। একটু একটু করে তিনি পাঁচ থেকে ছয় বার খাবার গ্রহণ করবেন।

তবে প্রধান খাবারের পাশাপাশি নাস্তার খাবার রাখবেন। তবে অবশ্যই একটি জিনিস আমাদের মাথায় রাখতে হবে আমরা যেই খাবার খাই না কেন তা ভালোভাবে চিবিয়ে খাব। 

ফলে আমাদের খাবার সহজেই হজম হবে এবং পেটে গ্যাস জমা হতে বাধা দিবে। ফলে, আপনাদের পেটে চর্বি  হবে না ইনশাআল্লাহ।

পাশাপাশি দুপুর ও রাতের মধ্যবর্তী সময়ে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এই সময়টাতেই প্রোটিন এবং সি জাতীয় খাবার খাবেন যা আপনাদের জন্য খুবই উপকারী।

তবে একটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে ঐ খাবারগুলোতে যাতে ক্যালরির পরিমাণ খুব কম থাকে।

প্রকৃতপক্ষে বিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার ঘণ্টা পরপর প্রত্যেক ব্যক্তির খাওয়া উচিত।

তবে তা অল্প অল্প করে খাবেন। ফলে রক্তে সুগারের পরিমাণ বজায় থাকে এবং পেটে চর্বি জমে না।

জিরা পানি পান করুন

প্রতিদিন জিরার সাথে পানি মিশ্রিত করে সকালে পান করতে পারেন।

জিরার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আছে যা আপনার খাবার হজম হতে সাহায্য করে।

আপনার পেটের ভুড়ি কমবে এবং পেটের চর্বিও  কমতে থাকবে।

পেটের চর্বি কমাতে কিছু ব্যায়াম জেনে নিন

পেটের চর্বি কমানোর উপায়
পেটের চর্বি কমানোর উপায়

আজ আমি খুবই পরিচিত একটি ব্যায়ামের কথা বলব। তা হল সিট আপ ব্যায়াম। এই ব্যায়ামটি খুবই সহজ।

প্রতিদিন এই ব্যায়ামটি করার চেষ্টা করবেন। প্রথমে আটবার সিট আপ করবেন। তারপর ধীরে ধীরে তা বৃদ্ধি করবেন।

এখন টা কিভাবে করবেন বলে দেই। প্রথমে আপনার একটি সমান জায়গায় বাছাই করবেন ইভেন্টি করার জন্য। 

তারপর এর উপর একটি চাদর বিছিয়ে দিন। এখন আপনি চিত হয়ে শুয়ে যাবেন। তারপর দুই পাঁজর ভাঁজ করে নিবেন।

এখন দুই হাত সামনের দিকে সোজা রেখে বড় করে শ্বাস ছেড়ে উঠবেন এবং বসবেন।  তারপর পুনরায় আবার শুয়ে পড়বেন  এভাবেই ব্যায়ামটি আপনি সম্পন্ন করবেন। 

আশা করি এর ফলাফল ভালই পাবেন ইনশাআল্লাহ। পাশাপাশি এই ব্যায়ামটি সম্পূর্ণ দেহের জন্য উপকারী।

আরো কিছু ব্যায়াম হলো লগ রেইস, ক্রাঞ্চেস, প্লাঙ্ক এবং এবস টুইস্ট। এই ব্যায়াম গুলো যদি নিয়মিত করলে পেটের চর্বি কমে যাবে। 

প্রতিদিন ইয়োগা করা

চাপ আমাদের দেহের ক্ষুধা বৃদ্ধি করে। ফলে আমাদের উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতে ইচ্ছে করে যা আমাদের পেটের চর্বি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

তাই, চাপমুক্ত থাকতে আপনি প্রতিদিন ইয়োগা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

অতিরিক্ত লবণ খাবেন না

পেটের চর্বি কমানোর সহজ উপায় হলো লবণের পরিমাণ না নেওয়া। কেননা লবণ একটি বিশেষ উপাদান আছে যার নাম হল সোডিয়াম যা পেটের চর্বি বৃদ্ধিতে সহায়ক।

তবে আপনি সামুদ্রিক লবণ পরিমাণমতো নিতে পারেন।  মোটকথা যতোটুকু সম্ভব হয় লবণ খাওয়া হতে বিরত থাকুন। 

চিনি খাওয়া হতে বিরত থাকুন

চিনি খেলে আমাদের পেটের চর্বি দ্রুত বেড়ে যায়।  তাই চিনি বা সুগার সিরাপ জাতীয় পানি খাবেন না।

তাই চিনি খাওয়া বন্ধ করুন। ফলে আপনার শরীর থেকেই এক প্রকার হরমোন নিঃসরণ হবে যা চর্বি কমাতে সাপোর্ট করবে।

 সাত দিনে পেটের চর্বি কমানোর উপায় জেনে নিন 

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা শারীরিক ব্যায়াম করতে পছন্দ করেন না।

আর তাদের জন্য আমি একটি উপায় পদ্ধতি যার মাধ্যমে সাত দিনে পেটের চর্বি কমাতে পারবেন।

আর তা  হল একটি পানীয় যা পান করে আপনারা পেটের চর্বি কমাবেন। পানিতে তৈরি করতে আপনাদের কিছু উপাদান প্রয়োজন হবে।

একটি কলা, মালটা অথবা কমলা হলেও চলবে। এখন ফ্যাটের পরিমাণ কম এইরকম টক দই লাগবে আধা কাঁপ।

আর এক  চামচ নারকেল তেল  এবং সামান্য আধা। তিসি বীজ দুই চামচ প্রয়োজন হবে। সর্বশেষে মাঠা পাচ চামচ লাগবে।

সকল উপাদান ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। তারপর খেতে হবে। এভাবে সাতদিন কন্টিনিউ করবেন। ইনশাআল্লাহ আপনি এর ফলাফল পাবেন। 

যাইহোক পেটের চর্বি কমানোর ১৯ টি উপায় বলেছি।  এই উপায়গুলি অবলম্বন করলে আশা করি আপনার পেটের চর্বি কমে যাবে।

তবে আপনার আজ এই উপায়টি অবলম্বন করেন না কেন নিয়মিত তা করতে হবে।  অন্যথা ভালো ফলাফল আশা করা যায় না।

যদি আর্টিকেলটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই কমেন্টে জানিয়ে দিবেন এবং আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত হতে পারেন।

Source: https://www.prothomalo.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published.