গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত?

গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত তা জানতে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন।

গর্ভকালীন সময়ে মেয়েদের রক্তশূন্যতা একটি সাধারন বিষয়।

পৃথিবীর 40% গর্ভবতী মেয়েরা এই সমস্যাটি ভুগে থাকে। এই রক্তশূন্যতা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে।

আমরা সবাই জানি যে গর্ভকালীন সময়ে মেয়েদের আলাদা একটি চাহিদা থাকে। অর্থাৎ পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবারের আকাঙ্ক্ষা।

তখন এই চাহিদা যদি পূরণ না করা হয়, তাহলে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে যাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় এনিমিয়া বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

এই রক্তশূন্যতার আরো কিছু কারণ আছে। যেমন আমাদের বাংলাদেশ অপরিকল্পিত জন্মদান অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়।

কেননা যখন একজন মেয়ে বারবার সন্তান জন্ম দেয়, তখন তারা এই সমস্যায় ভুগবে।

অন্য পোষ্ট পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় শরীর দুর্বল হলে করণীয় জানুন

প্রেগনেন্সিতে রক্তশূন্যতার লক্ষণ

গর্ভকালীন সময়ে রক্তশূন্যতা হলে মেয়েদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে।

ধরুন কোনো মেয়ে যদি গর্ভকালীন সময়ে দেখতেছে যে সে খুবই ক্লান্ত। এবং অবসাদে ভুগছে।

পাশাপাশি তার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। দেখা যায় একটু কাজ করলেই সে হাঁপিয়ে যায়।

কিছুদূর হেঁটে গেলে অথবা সিঁড়ি বেয়ে উঠলেই সে ক্লান্ত হয়ে যায়।

কোন কোন ক্ষেত্রে মায়েরা দেখা যায় ডাক্তারদের কাছে বলে আমাদের বুক ধরফর করছে।

প্রকৃতপক্ষে এগুলোই হচ্ছে অ্যানিমিয়ার লক্ষণ। আর যখন ডাক্তাররা পরীক্ষা করে, তখন দেখা যায় গর্ভবতী মায়ের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ খুবই কম।

এর পরিমাণ 10 এর নিচে থাকলে একে বলা হয় মাইল্ড এনিমিয়া।

আর এর পরিমাণ সাতের নিচে থাকলে একে বলে সিবিয়ার অ্যানিমিয়া।

রক্তশূন্যতা যেমন মাকে ঝুঁকিতে ফেলে ঠিক তেমনি ভাবে তার গর্ভে থাকা সন্তান কেউ বিপদে ফেলতে পারে।

অর্থাৎ গর্ভে থাকা সন্তানের বিকাশ সঠিকভাবে ঘটবে না। পাশাপাশি সময়ের আগেই মায়ের লেবার পেইন শুরু হয়ে যায়।

অসময়ে ডেলিভারি হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং বাচ্চার ওজন কম থাকে।

অনেক সময় দেখা যায় প্রেগনেন্সিতে রক্তশূন্যতা থাকলে মেয়েদের হার্টফেইল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাই সময়মত এই সমস্যাটাকে চিহ্নিত করা এবং চিকিৎসা করা খুবই জরুরী।

যখন দেখা যায় গর্ভবতী মায়ের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ১০ এর নিচে থাকে। তখন ডাক্তাররা তাদেরকে আয়রনযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

আরো পড়ুনঃ পেটের চর্বি কমানোর উপায়

গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত

গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। এই খাবারগুলো হল গরু এবং খাসির মাংস,মাগুর মাছ,শিং মাছ,শিমের বিচি, ডিম, ডালিম, আপেল, পেয়ারা, শস্য দানা।

পাশাপাশি শাকসবজি যেমন বাঁধাকপি ফুলকপি লাল শাক পালং শাক ইত্যাদি।

পাশাপাশি বাদাম পেয়ারা আপেল খেতে পারেন। মাঝে মাঝে গর্ভাবস্থায় মাংস এবং দুধ খাবেন।

এই সবুজ শাকসবজি এবং ফলমূলে যথেষ্ট পরিমাণে আয়রন থাকে। অর্থাৎ যে ফোনগুলো কাটলে পানির রং কালো হয়ে যায়।

পাশাপাশি ফলমূল ও কালো হয়ে যায় তখন বুঝে নিতে হবে এই ফলে আয়রন আছে। এছাড়া কচুশাক,পাকা কলা এগুলো খেতে পারেন।

কেননা এ সকল খাবারে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে। এই সকল খাবার গুলো আপনাদের খাদ্যতালিকা রাখবেন।

ইনশাআল্লাহ আয়রনের চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে। অনেক সময় দেখা যায় গর্ভবতী মায়ের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ১০ এর নিচে থাকলে ডাক্তাররা আয়রন ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

পাশাপাশি আয়রন ইনজেকশনও দিয়ে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় এই ইনজেকশনের মাধ্যমে এনিমিয়া সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

কেননা বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক নামিদামি কোম্পানি এই ইনজেকশনটি বাজারে এনেছে যার পার্শপ্রতিক্রিয়া খুবই কম।

এই ইনজেকশনটা শিরাপথে দিতে হয়। তবে একটি জিনিস মাথায় রাখবেন আপনার দেহে থাকে আর আয়রন শোষণ করার জন্য খাবার খেতে হবে।

এগুলোর জন্য আপনি ভিটামিন সি জাতীয় খাবার কিনতে পারেন। আশা করি গর্ভাবস্থায় রক্তশূন্যতা হলে কি খাবার খাওয়া উচিত তা জানতে পেরেছেন। এবং আমাদের ফেসবুক পেইজের সাথে যুক্ত থাকুন। পাশাপাশি নিচের ভিডিওটি দেখুন।

অন্য পোষ্ট পড়ুনঃ মাইগ্রেন এর লক্ষণ ও প্রতিকার

Source: https://womenshealthbd.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.